এই অক্টোবর মাসেও বৃষ্টি পড়ছে বেশ কয়েকদিন। তাতে ফুলে ফেঁপে উঠেছে খরস্রোতা সাঙ্গু নদী। আর এই ভয়ংকর সাঙ্গুতে তিন দিনে রেমাক্রি থেকে বান্দরবান শহরের ঘাট থেকে ১১০ কিলোমিটার কায়াক চালিয়েছেন কিছু তরুণ। তাদের উদ্যেশ্য ছিলো প্লাস্টিক দূষণের ব্যপারে পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি। সবচেয়ে বড় ব্যপার হচ্ছে এ অভিযানের জন্য নির্মিত কায়াকটি তৈরী করা হয়েছে প্লাস্টিকের বোতল দিয়েই!

The Plastic Bottle Kayak Expedition Bangladesh 2022 শিরোনামের এ অভিযানের স্লোগান ছিলো REDUCE, REUSE, RECYCLE। পূজার বন্ধের ব্যস্ততম সময়ে ৬ থেকে ৮ ই অক্টোবর যখন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পর্যটক বান্দরবানে বেড়াতে গিয়েছিলো তখনই আয়োজন করা হয় এ অভিযানের। এ অভিযানের প্রধান উদ্যোক্তা প্রদীপ যোবায়ার ভ্রমণগুরু.কম কে বলেন প্লাস্টিক দূষণের ব্যপারে পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতার সৃষ্টির জন্যই তাদের এ আয়োজন।

এছাড়া পরিবেশবান্ধব অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমকে জনপ্রিয় করারও প্রয়াস রয়েছে তাদের। দেখতে যতটা সহজ মনে হচ্ছিলো ব্যপারটা ততটা সহজ হয়নি। এক বছর আগেই বাঁশ ও প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে মাত্র ৬-৭ হাজার টাকা খরচ করে তৈরী করা হয়েছিলো এ কায়াক। এক বছর নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত এ অভিযানে নামে তারা। প্রদীপ যোবায়ার ছাড়া এ দলে ছিলো চো সিং মারমা এবং সামিরা আফরোজ।

এ উদ্যোগ যৌথভাবে বাস্তবায়িত করে The Plastic Bottle Kayak Expedition Bangladesh ও ভ্রমণ ভিত্তিক গ্রুপ Travelers of Bangladesh (ToB) । ২ লিটারের ৮২ টি প্লাস্টিক বোতল ও ৫ লিটারের ৫২ টি বোতল দিয়ে তৈরী করা হয়েছে এ কায়াক। উদ্যোগটি সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছে জেলা প্রশাসন বান্দরবান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বিজিবি। প্রথম দিন রেমাক্রি থেকে থানচি পর্যন্ত ২৩ কিমি চালানো হয় এ কায়াক। পরবর্তী দিন ৪৩ কিমি চালিয়ে পৌছে থানচি থেকে রিজুক।
শেষ দিনে এ অভিযানে চালানো হয় রিজুক থেকে বান্দরবান শহরের ঘাট পর্যন্ত আরো ৪৬ কিমি। এভাবে তিন দিনে ১১০ কিমি চালিয়ে শেষ হয় এ অভিযান। আয়োজকদের আশা এধরণের আয়োজন মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরী করবে, যত্র তত্র প্লাস্টিক বোতল ফেলার আগে অনেকবার চিন্তা করবে।
ফিচার ছবি সহ সব ছবি সংগৃহীত
ভ্রমনগুরু your travel adviser