শৈত্য প্রবাহের পূর্বাভাস ছিলো আগেই। আজ সকাল ১০:৪০ এ যখন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম সৈকত থেকে ৭৯ জন সাঁতারু বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেবার লক্ষ্যে নামেন, তখনো রৌদ্রোজ্জ্বল ছিলো আবহাওয়া। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে খারাপ হতে শুরু করে আবহাওয়া। মেঘলা আকাশ আর তীব্র বাতাসের কারণে নাজেহাল সাঁতারুরা। এছাড়া বেশি দূরের কিছুও দেখা যাচ্ছেনা। এ অবস্থায় কতজন এবার শেষ করতে পারবে এখনো বলা যাচ্ছেনা।
এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রাসেল দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ১৬.১ কিলোমিটার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে পৌছে গেছেন সেন্ট মার্টিন দ্বীপে, তার সময় লেগেছে ৩ ঘন্টা ৫০ মিনিট। রাসেল বন্ধু মহল ও পরিচিতদের কাছে সী হর্স নামে পরিচিত। একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে বাংলা চ্যানেল ”ডাবল ক্রস” করার অনন্য রেকর্ডও তার দখলে আছে।

গতবছরও রাসেল তিন ঘন্টা ২৫ মিনিটে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলো। রাসেলের পর আজকে সুজা মোল্লা, মো: আবু নাইম ও আরিফুর রহমান দ্বীপের বালি স্পর্শ করেন। এছাড়া আয়রনম্যান শামসুজ্জামান আরাফাতও শেষ করতে পেরেছেন। ২০০৬ সালে প্রয়াত অ্যাডভেঞ্চার গুরু কাজী হামিদুল হক বাংলা চ্যানেল আবিস্কার করে দূরপাল্লার এ সাঁতারের প্রবর্তন করেন। এবার ছিলো এ সাঁতারের ১৬ তম আয়োজন।

একজন বিদেশি সহ মোট ৭৯ জন সাঁতারু এ বছর বাংলা চ্যানেল সাঁতারের জন্য নেমেছেন। এদের মধ্যে সৈয়দা আখতারুজ্জামান তার ছেলে সৈয়দ আরবিন আয়ান ও মেয়ে সৈয়দা লারিসা রোজেনও আছেন। বাবা-ছেলে-মেয়ের বাংলা চ্যানেল সাঁতারে অংশগ্রহণের রেকর্ড এবারই প্রথম। এছাড়া মাত্র ১০ বছর ৪ মাস বয়সে যোগ দিয়ে লারিসা সর্বকনিষ্ঠ সাঁতারু হিসেবে বাংলা চ্যানেলে নেমেছেন। সবার তথ্য এখনো আমাদের হাতে এসে পৌছায়নি, আসলে এই পোস্ট আপডেট করা হবে।
ফরচুন বাংলা চ্যানেল সাঁতারের আয়োজক ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার ও এক্সট্রিম বাংলা নামে দুটো সংগঠন। এ সাঁতারের প্রধান স্পন্সর হিসেবে আছেন বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডের ব্র্যান্ড ফরচুন। রেসকিউ পার্টনার হিসেবে আছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এছাড়া পার্টনার হিসেবে আছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড, ইউনাইটেড সিকিউরিটিজ, সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড, ষড়জ, ভিসা থিং ও স্টুডিও ঢাকা।
ফিচার ছবি: বাংলা চ্যানেল সুইমিংয়ের ফেইসবুক পেইজ।
ভ্রমনগুরু your travel adviser