অধিকাংশ চাকুরিজীবীদের জন্য প্রতিবছর কয়টি সরকারি ছুটি আছে সেটার উপর নির্ভর করে সাজাতে হয় ভ্রমণ পরিকল্পণা। এদিক দিয়ে ২০২৩ সালটা ছিলো রীতিমতো দু:স্বপ্ন, যে বছরটার ২২ দিন সরকারি ছুটির ৮ দিনই পড়েছিলো শুক্র শনিবার। যে ১৪ দিন ছুটি পাওয়া গিয়েছিলো সেগুলোর মধ্যেও আবার বেশিরভগাই সপ্তাহের একেবারে মাঝামাঝিতে ছিলো। ফলে ভ্রমণের জন্য ছুটি পেতে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে সবাইকে।
এক্ষেত্রে ২০২৪ সালের ছুটিগুলো দারুণই বলতে হবে। আগামী বছরের ২২ দিন সরকারী ছুটির মাত্র ২ দিন পড়েছে সপ্তাহান্তের বন্ধের মধ্যে। এছাড়া বেশ কয়েকটি ছুটি এমনভাবে আছে, যেটা মাথায় রেখে লম্বা ছুটির পরিকল্পণা করা যাবে। আসুন দেখে নেই এক নজরের আগামী বছরের ছুটি গুলো:
জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী মাসের মধ্যে ফেব্রুয়ারী মাসে দুটি সরকারী ছুুটি রয়েছে। এ দুটি হচ্ছে ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ছুটি যা পড়েছে বুধবারে এবং ২৬ ফেব্রুয়ারী শবে বরাতের ছুটি যা পড়েছে সোমবারে। দুটো ছুটিতেই মাঝের একদিন ছুটি বের করতে পারলে দারুণ একটা চার দিনের বন্ধ পাওয়া যাবে, যেটা দিয়ে দারুণ একটি সুন্দরবন ট্রিপ হয়ে যেতে পারে।

মার্চ-এপ্রিল মাসে বেশ ভালোই বন্ধ আছে। ২০২৪ সালের প্রথম তিন দিনের বন্ধটাই পড়েছে মার্চে। ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনের ছুটিটি পড়েছে রবিবারে, যার অর্থ ১৫-১৬-১৭ ই মার্চ ২০২৪, এ তিন দিনে হয়ে যেতে পারে চমৎকার একটি ট্যুর। অনেকেই সারা বছর বন্ধ না পেলেও ঈদের সময় বেশ বড়সড় বন্ধ পান। তাদের সাথে তাল মিলিয়ে বাকিরাও চাইলে একটি বড় ট্যুরের জন্য ছুটি বের করতে পারবেন এপ্রিলে।
এপ্রিলের ৯-১০-১১ হতে পারে সম্ভাব্য ঈদের ছুটি যেটা পড়ছে মঙ্গল-বুধ-বৃহস্পতিবার। শুক্র-শনিবার তো আছেই উইকএন্ড, এর পর ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের ছুটিও। এর অর্থ এপ্রিলের ৭ ও ৮ ছুটি নিতে পারলেই কেল্লা ফতে, একেবারে ৫ এপ্রিল থেকে শুরু করে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি! এ ছুটিতেতো নেপালের কোন ট্রেকে যাওয়ার একটা পরিকল্পণা করা যেতেই পারে। যারা কাশ্মীর ভ্রমণের পরিকল্পণা করছেন, তারাও জেনে রাখুন এ সময়টা টিউলিপ ফুল ফোটার জন্য বিখ্যাত।

মে-জুন এও বন্ধের কমতি নেই। পহেলা মের শ্রমদিবসের বন্ধ পড়েছে বুধবারে। আবার ২৩ এ মে বৌদ্ধ পূর্ণিমার বন্ধটাও পড়েছে বৃহস্পতিবার যার মানে ২৩-২৪-২৫ মে আরও একটা তিনদিনের বন্ধ। এরপর আবার কোরবানীর ছুটিটাও একেবারে মনমতোই। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৬-১৭-১৮ ই জুন কোরবানীর ঈদের ছুটি, যেটা মূলত রবি-সোম-মঙ্গলবার। অর্থাৎ এর সাথে শনি-রবি উইকএন্ড মিলিয়ে ১৪ থেকে ১৮ জুন দারুণ একটা বন্ধ!
জুলাই-অগাস্ট মাসের মধ্যে বন্ধ কম হলেও তিনটি বন্ধই বেশ ভালো দিনে। ১৭ জুলাই আশুরার বন্ধ বুধবার আবার ২৬ অগাস্ট জন্মাষ্টমীর বন্ধ সোমবার। অর্থ্যাৎ এ দুটো বন্ধের মধ্যেই একদিন করে ছুটি নিতে পারলে চমৎকার একটি চারদিনের বন্ধ হয়। আবার ১৫ ই অগাস্ট এর বন্ধ রবিবারে হওয়াতে ১৩-১৪-১৫ মিলে এ মাসেও মিলছে বছরের তৃতীয় তিন দিনের বর্ধিত সপ্তাহান্ত।

সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মিলে মাত্র দুদিন বন্ধ। তার একটি হচ্ছে ১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার ঈদে মিলাদুন্নবীর বন্ধ। সনাতন ধর্মালম্বীদের জন্য সুসংবাদ হচ্ছে দূর্গা পূজার ছুটি ১৩ অক্টোবর হচ্ছে রবিবার, যার মানে উৎসব শুরু করে দিতে পারবেন ১১ অক্টোবর থেকেই। নভেম্বর-ডিসেম্বর মিলে মাত্র দুদিন ছুটি হলেও বিষয়টা একেবারে খারাপ নয়। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের ছুটি পড়েছে সোমবারে। আর ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের ছুটি পড়েছে বুধবার।
এরকম একটি বছর থাকলে ছুটির পাশপাশি ভ্রমণ করতে হলে লাগবে বেশ টাকাকড়িও। তাই এখন থেকে টাকা জমাতে শুরু করে দিতে পারেন।
ফিচার ছবি: উইকিমিডিয়া
ভ্রমনগুরু your travel adviser