শেষবার পৃথিবীর সর্বোচ্চ বিন্দু মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন খালিদ হোসেন ২০১৩ সালের ২০ মে। সজল খালিদ নামে পরিচিত এ পর্বাতোরহীর মৃত্যু হয় সামিটের মাত্র কয়েক ঘন্টা পরে। তারপর থেকে যেনে হঠাৎ থমকে গেছে বাংলাদেশের এভারেস্ট অভিযান। এর আগে ২০১০ সালে মুসা ইব্রাহীম, ২০১২ সালে এম এ মুহিত, নিশাত মজুমদার এবং ওয়াসফিয়া নাজরীন, এ চারজনের হাত ধরে এসেছিলো বাংলাদেশের এভারেস্টর চূড়ার সাফল্য।
অনেকগুলো বছর পর এবছর বাংলাদেশ থেকে ২৯,০২৮ ফিট (৮,৮৪৮ মিটার) উচ্চতার এ পর্বত আরোহণের লক্ষ্য নিয়ে রওনা হচ্ছেন বাবর আলী। আজ চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছে চট্টগ্রাম ভিত্তিক অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব “ভার্টিকাল ড্রিমার্স”। শুধু পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টই নয়, একই অভিযানে বাবর আলীর লক্ষ্য “মাউন্ট লোৎসেও”। নেপালের খুম্বু রিজিওনে অবস্থিত মাউন্ট লোৎসে পৃথিবীর চতুর্থ সর্বোচ্চ পর্বত, যার উচ্চতা ২৭,৯৮০ ফিট (৮,৫৮৬ মিটার)।
একই সাথে পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ এ দুটি পর্বতে অভিযানের ঘটনা বাংলাদেশে প্রথম। এ অভিযান শুরুর জন্য আগামী ১ এপ্রিল ২০২৪, কাঠমুন্ডুর উদ্দেশ্যে রওনা হবে বাবর আলী। সব কিছু ঠিকঠাক মতো চললে মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহেই সুসংবাদ পেতে পারে বাংলাদেশ। এ অভিযানে বাবর আলীকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে ভিজুয়াল নিটওয়ারস ও এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস। এছাড়াও অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ অভিযানের ব্যয় বহনে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

চট্টগ্রামের ছেলে বাবর আলী পেশায় একজন ডাক্তার হলেও নেশায় পুরোপুরি পর্বতারোহী। ২০১৪ সাল থেকে নিয়মতিভাবেই হিমালয় পর্বতমালার বিভিন্ন চূড়ায় আরোহন করেছেন তিনি। ট্রেকিং-এর জগতে তার পায়েখড়ি হয় ২০১০ সালে; পার্বত্য চট্টগ্রামের নানান পাহাড়ে পথচলার মধ্য দিয়ে। চট্টগ্রামের পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। এছাড় ভারতের নেহেরু মাউন্টেনিয়ার্স ইন্সটিউট থেকে পর্বতারোহণের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন তিনি। এভারেস্ট অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে ২০২২ সালে বাবর আলী প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ২২,৩৪৯ ফিট উঁচু “আমা দাবলাম” এর শীর্ষে পৌছান।

সংবাদ সম্মলনে বাবর বলেন, ‘বেশিরভাগ পর্বতারোহীই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু বিন্দুতে দাঁড়িয়ে বাকি পৃথিবী দেখার
স্বপ্ন দেখেন। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। আমি সব সময় চ্যালেঞ্জিং আর নতুন কিছু করতে পছন্দ করি
বলেই একই অভিযানে এভারস্টের সাথে লোৎসে আরোহণের এই প্রচেষ্টা নিতে যাচ্ছি।‘ অনেকগুলো বছর পর এরকম যোগ্য একজন পর্বতারোহীর এভারেস্ট অভিযানের দিকে নজর থাকবে দেশের অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী সকল মানুষের, তবে ফলাফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে প্রায় দুমাস।
ছবি ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স-এর সৌজন্যে
ভ্রমনগুরু your travel adviser