ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ স্থান সান্দাকফু। নেপাল-ভারতের সীমান্তবর্তী সিংগলীলা জাতীয় উদ্যানে অবস্থিত এ ট্রেকটি কম খরচে ৩,০০০ মিটারের বেশি পর্বতারোহণের জন্য একটি আদর্শ স্থান ছিলো। সান্দাকফু উচ্চতা ৩,৬৩৬ মিটার (প্রায় ১২,০০০ ফিট)। মাত্র কয়েকবছর আগেও বাংলাদেশের অনেক ট্রেকার সান্দাকফুকে বেছে নিতো তাদের প্রথম ৩,০০০ মিটার পর্বত হিসেবে। খরচও হতো খুব কম, মাত্র ১২০-১৫০ ডলার। কিন্তু সেদিন আর নেই।
একদিকে যেমন খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে নেপাল রাতে থাকার নিষেধাজ্ঞার কারণে সান্দাকফু ট্রেকিংও কঠিন হয়ে পড়েছে। সব কিছু মিলে বাংলাদেশী পর্যটকদের কাছে আবেদন হারাচ্ছে গর্ভধারিণী উপন্যাসের জন্য খ্যাত এই ট্রেক। প্রায় একই খরচে নেপালের অনেক জায়গায় ট্রেকিং করা যাচ্ছে বলে সেসব গন্তব্য বেছে নিচ্ছে পর্যটকরা। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় সেনা ক্যাম্পে/চেকপোস্টে রিপোর্ট করাটাও কম ঝামেলার নয়।

করোনার আগে বিদেশীদের জন্য সিংগলীলা জাতীয় উদ্যানের সরকারী ফি ছিলো জনপ্রতি প্রতিদিন ২০০ রুপি । পাঁচ দিনের ট্রেকিংয়ের জন্য খরচ হতো ১,০০০ রুপি। এখন সেটা বেড়ে হয়েছে জনপ্রতি ৫০০ রুপি, অর্থ্যাৎ পাঁচ দিনে গুনতে হবে ২,৫০০ রুপি! এছাড়া অনেকেই গাড়িতে করে তুমলিং থেকে ট্রেক শুরু করেন। গাড়ি প্রতি দিতে হচ্ছে আরো ৪০০ রুপি। আবার সান্দাকফুর রাস্তায় গাড়িতে ৬ জনের বেশি ওঠা নিষেধ।
আগে গাইড ফিও ছিলো অনেক কম, দিন প্রতি ৮০০ রুপি। এখন সেটা হয়েছে প্রতিদিন ১,২০০ রুপি। সাধারণভাবে বেশিরভাগ ট্রেকার তুমলিং থেকে ট্রেকিং শুরু করে প্রথম রাতে গাইরীবাসে থেকে পরের রাতে কালপোখারী থেকে এর পর সান্দাকফুতে উঠতো। কিন্তু এখন নেপালের অংশগুলোতে বিদেশীদের রাতে থাকার নিষধাজ্ঞা থাকায়, তুমলিং, কালপোখারী রাতে থাকা যাচ্ছেনা। অবশ্য খাবার খেয়ে আসতে কোন সমস্যা নেই।

এর ফলে মানেভঞ্জন থেকে ট্রেকিং শুরু করে প্রথম রাতে থাকতে হচ্ছে চিত্রে বা তুংলুতে। আবার তুমলিং থেকে ট্রেকিং শুরু করে ৮ কিমি সহজে পার হয়ে গাইরীবাসে থাকা যাচ্ছে। কিন্তু গাইরীবাস থেকে সান্দাকফুর ১৪ কিমি দূরত্ব বেশ খাড়া, প্রায় ৪,০০০ ফিটের বেশি। একদিনে এই উচ্চতায় ওঠা যেমন ট্রেকারদের জন্য কষ্টকর, ঠিক তেমনই সান্দাকফু যেয়ে থাকার কারণে উচ্চতা জনিত অসুস্থতাও বেশি দেখা যাচ্ছে।
এখন ভারতের অংশে থেকে ট্রেক করতে হলে নিন্ম লিখিত রাউট ফলো করা যেতে পারে:
প্রথম দিন: চেংড়াবান্দা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে শিলিগুড়ি হয়ে মানেভঞ্জন রাতে থাকা
দ্বিতীয় দিন: মানেভঞ্জনে অনুমতি নিয়ে সিংগলীলা জাতীয় উদ্যানের ফি পরিশোধ করে গাড়িতে তুমলিং। সেখান থেকে ট্রেকিং শুরু করে গাইরীবাস (৮ কিমি ট্রেকিং)
তৃতীয় দিন: গাইরীবাস থেকে সান্দাকফু পৌছানো (১৪ কিমি ট্রেকিং)
চতুর্থ দিন: সান্দাকফু থেকে ঠাকুম বা মোল্লী যেয়ে থাকা (ঠাকুম ৭ কিমি, মোল্লী ১৬ কিমি)
পঞ্চম দিন: ঠাকুম বা মোল্লী থেকে ফালুট যেয়ে থাকা (ঠাকুম থেকে ১৪ কিমি, মোল্লী থেকে ৫ কিমি)
ষষ্ঠ দিন: ফালুট থেকে গোর্খে যেয়ে থাকা (১৫ কমি)
সপ্তম দিন: গোর্খে থেকে শ্রীখোলা হয়ে গাড়িতে করে মানেভঞ্জন বা শিলিগুড়ি ফিরে আসা। (১৬ কিমি)

বেশিরভাগ হোমস্টে/জিটিএ ট্রেকার্স হাটের খরচ বেড়েছে। বর্তমানে শুধুমাত্র থাকার জন্য খরচ পড়ছে ৫০০-৬০০ রুপি। আর খাবার ২৫০-৩০০ রুপি। সব মিলে সান্দাকফু ট্রেকিংয়ের বাজেট করতে হবে এখন ২০০ ডলার। এছাড়া শিলিগুড়ি থেকে আগে যেমন তিন হাজার রুপিতে মানেভঞ্জন যাওয়া যেতো এখন সেটা বেড়ে হয়েছে অন্তত ৪,০০০ রুপি। এর মধ্যে একটাই ভালো সংবাদ ঢাকা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি সরাসরি ট্রেন চলছে।
ফিচার ছবি: খন্দকার রিয়াদ
ভ্রমনগুরু your travel adviser
আমার ভিসায় Entry/Exit by AIR/ICP Haridaspur দেওয়া আছে আমি কি মৈত্রী এক্সপ্রেসে যেতে পারবো?
বাই ট্রেন গেদে লেখা না থাকলে যেতে পারবেন না। পোর্ট অ্যাড করতে হবে