বাংলাদেশে থেকে পর্যটক টানতে ২০১৬ সালের মার্চ মাস থেকে ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নামেমাত্র শর্তে ভিসা অন এরাইভাল সুবিধা দিয়ে আসছিলো। সেসময় ফিরতি টিকেট, পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ৬ মাস বাকি আর হোটেল বুকিং থাকলে কোন অসুবিধা ছাড়াই ইন্দোনেশিয়ার এয়ারপোর্টগুলোতে অন এরাইভাল ভিসা পেয়েছে বাংলাদেশী পাসপোর্টে। ছিলোনা কোন ভিসা ফিও। করোনার শুরুর দিকে সব দেশের পর্যটকদের জন্যই অন এরাইভাল ভিসা সুবিধা বাতিল করে দেয় ইন্দোনেশিয়া। আবার ভিসা অন এরাইভাল চালু করলেও সে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে বাংলাদেশকে।
গত ৩০ মে ২০২২ ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭২ টি দেশের জন্য অন এরাইভাল ভিসা চালু করার ঘোষণা দেয়। সেই বিশাল তালিকায় নেই বাংলাদেশ। বাংলাদেশের দুই প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত ও মিয়ানমার আছে সে তালিকায়। নেই নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, পাকিস্তান ও মালদ্বীপসহ সার্কভূক্ত অন্য কোন দেশও। মিয়ানমার সহ বেশ কয়েকটি আসিয়ান দেশ অবশ্য ভিসা ছাড়াই যেতে পারে ইন্দোনেশিয়া। এগুলো হচ্ছে ব্রুনেই দারুসসালাম, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, লাওস, সিংগাপুর, মালেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম।

ভিসা অন এরাইভাল সুবিধা না পেলে বাংলাদেশী পর্যটকদের ই-ভিসা নিয়ে যেতে হবে। ই-ভিসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে এ ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে কোন স্পন্সরকে ইন্দোনেশিয়া থেকে। অবশ্য এ আবেদন চাইলে কোন ট্রাভেল এজেন্টও করতে পারবে। কিন্তু সহজে ইন্দোনেশিয়া বেড়াতে যাওয়ার বিষয়টি আর হচ্ছেনা। সে দেশের জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ বালিতে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক যেতো।
তবে একথাও ঠিক যে ভিসা অন এরাইভাল সুবিধার অপব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছিলো অনেক। ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মানব পাচারকারীরা ইন্দোনেশিয়ার বালি ও মেদান দ্বীপকে ব্যবহার করে জলপথে মালেশিয়া সহ বেশ কিছু দেশে মানব পাচারের ঘটনা ঘটায়। সে সময় বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া দুদেশেই ভিসা অন এরাইভাল নিয়ে অনেক কড়াকড়ি আরোপ করে। সন্দেহ হলেই অফলোড করে দেবার বা বাংলাদেশ থেকে যেতে না দেবার ঘটনা ঘটে।
ফিচার ছবি লেখক
ভ্রমনগুরু your travel adviser
2 comments
Pingback: ওয়ার্ক ফ্রম বালি! - ভ্রমনগুরু
Pingback: হানিমুনের এশিয়ার দারুণ সব গন্তব্য - ভ্রমনগুরু