ঢাকার পাশে মন মাতানো ক্যাম্পিং

যারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন ক্যাম্পিং তাদেরকে চুম্বকের মতই টানে। ক্যাম্পিং করে প্রকৃতিকে নিবিড়ভাবে উপভোগ করা যায়। শিল্পায়ন ও নগরায়নের যুগে ঢাকার পাশে ক্যাম্পিং করার মত জায়গা খুঁজে পাওয়াই দায়, তাই ক্যাম্পিং এর জন্য ছুটে যেতে হয় দুর-দুরান্তে। আজ আপনাদেরকে এমন একটি স্থানের সন্ধান দিবো যেখানে ঢাকা থেকে যেতে লাগে মাত্র ৪০ মিনিট।

ক্যাম্পসাইট থেকে নদীর দৃশ্য ছবি জুনায়েদ

আপনি হয়ত ভাবছেন পচা, দুর্গন্ধযুক্ত বুড়িগঙ্গা, তুরাগ কিংবা শীতলক্ষ্যার কোন তীরের কথা বলছি। আপনার ধারণা একবারেই ভুল। এটা এমন এক জায়গা যার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে স্বচ্ছ জলের ব্রহ্মপুত্র। নদীর পানি দেখে সাঁতার না কেটে থাকা কঠিব হবে। অনেক ভনিতা হল। এবার জায়গাটির পরিচয় দেই। ক্যাম্পসাইটের নাম Ribereno Adventure যার অবস্থান নারায়ণগঞ্জ জেলার লাঙ্গলবন্দে। প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁও ও মদনপুরের মাঝামাঝি।

ক্যাম্পসাইটের দৃশ্য ছবি জুনায়েদ

এখানের পরিবেশটা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। নদীর একদম তীরে অবস্থিত তার উপর পানিতে বানানো হয়েছে মাচা। সেই মাচাতে তাবুতে শুয়ে আকাশ দেখতে খারাপ লাগবে কজনার! গাছ গাছালির ছাঁয়ায় একদম নিরিবিলি পরিবেশ, নেই কোন কোলাহল। মাচাতে দক্ষিণমুখী হয়ে বেঞ্চে বসলে বাতাসের ঝাপ্টা এসে ছুঁয়ে দিবে। ঢাকার মত গুমোট বাঁধা গরম এখানে নেই। বাতাসের তোড়ে গরম ধুয়ে মুছে যায়।

শহরের গরমেরছিটেফোটাও নেই এখানে ছবি রিয়াদ

দক্ষিণা হাওয়ায় নদীতে উঠে মৃদু ঢেউ। সেই ঢেউয়ের মাঝে নৌকা কিংবা কায়াক (কায়াকের কার্যক্রম এখনও শুরু হয় নি) চালাতে কেমন লাগবে একবার কল্পনা করুন। তাবুতে শুয়ে ঝিরিঝিরি বাতাস কিংবা নদীর গর্জন শুনতে শুনতেই প্রভাতে হাজির হবে পাখির ঝাঁক। পাখির কিচিরমিচির ডাকে আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে শৈশবের দিনগুলোতে। পূর্ণিমা রাত হলে তো কথাই নাই। নদীতে বসে চাঁদটাকে অনেক বেশিই বড় মনে হয়।

নদী থেকে লোকজনকে উঠানেই কঠিন ছবি ভিউ

তারকারাজিরা আকাশকে আলোকিত করে সঙ্গ দিয়ে যায় রাতভর। এমন চমৎকার একটি জায়গায় রাতভর ক্যাম্পিং করতে পারবেন মাত্র ১৫০ টাকায় (এটা প্রমোশনাল ফি। ভবিষ্যতে হয়ত আরও বাড়বে)। ক্যাম্পিং করার সকল উপকরণ তারাই দিবে, আপনার কিছুই নিয়ে যেতে হবে না। চাইলে বারবিকিউও করতে পারবেন। যারা গাড়ি বা বাইক নিয়ে আসতে চান তাদের জন্য পার্কিং এর ব্যবস্থা আছে নিরাপত্তাসহ।

এত পাওনার মাঝে একটাই সমস্যা খাবারের সার্ভিস নেই। নেই হাইকমোডের ওয়াশরুম, তবে লো কমোড বাথরুম আছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে দ্রুতই খাবার ও ওয়েস্টার্ন টয়লেট সার্ভিসে নিয়ে আসবে।

কীভাবে যাবেনঃ গুলিস্তান থেকে স্বদেশ বা দোয়েলে লাঙ্গলবন্দ স্টেশনে নামবেন। ভাড়া নিবে ৫৫ টাকা। এসি বাসে আসতে চাইলে বোরাক এসি পাবেন। ভাড়া ৭০ টাকা। লাঙ্গলবন্দ স্টেশনে নেমে রাস্তা পার হয়ে অটো বা রিক্সা পাবেন। শেয়ারে অটোতে আসতে চাইলে জহরপুর মাদ্রাসার সামনে নামতে হবে। ১০ টাকা নিবে প্রতিজন। তারপর একটু হেটে কালীবাড়ি মোড়। মোড় থেকে একটু উত্তরেই ক্যাম্পসাইটের মেইন গেট।

ক্যাম্পসাইটের পাশেই রয়েছে কালী মন্দির ছবি জুনায়েদ

যারা রিক্সা নিয়ে আসতে চান তারা সরাসরি চর ইসলামপুর কালীবাড়ি মোড় আসতে পারবেন। ৪০-৫০ টাকা নিবে। গুগল ম্যাপে দেখে নিতে পারেন এখান থেকে। নিরাপত্তা কেমনঃ এটা একটা প্রাইভেট প্রোপার্টি তাই বলা যায় বেশ নিরাপদ। রাতে মেইন গেটের তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া আছে নাইটগার্ড। যারা ফ্যামিলি নিয়ে ক্যাম্পিং করতে চান তারা নিশ্চিন্তে আসতে পারেন। এখানে ক্যাম্পিং করতে হলে প্রি-বুকিং দিতে হয়। বুকিং করতে Ribereno Adventure পেজে মেসেজ করুন।

ফিচার ফটো: খন্দকার রিয়াদ

About ভ্রমণগুরু ডেস্ক

Check Also

CNS Arena তে ক্যাম্পিং ও লক্ষণসাহার জমিদার বাড়ি দর্শন

বেশ কদিন ধরে বাপ্পী আমাকে গুতাচ্ছে, নরসীংদির লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়িতে যাওয়ার জন্য। নানা ব্যস্ততায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.