শীতকালীন কেটু সামিটে শীর্ষ তিন পর্বতারোহী নিঁখোজঃ উদ্ধার অভিযান শুরু

গত সপ্তাহে জন স্নোরির নের্তৃত্বাধীন তিন জনের দলের শীতকালীন কেটু সামিটের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবার পর তারা ক্যাম্প ২ তে নেমে এসে ঘোষণা দিয়েছিলেন এ সপ্তাহে আবার চেষ্টা করবেন। ৫ ফেব্রুয়ারী রাত ১ টায় সামিটের উদ্দেশ্য রওনা দেবার পর পেরিয়ে গেছে ৩০ ঘন্টার বেশি সময়, এখনো খোঁজ মেলেনি তাদের।

জিপিএস, ওয়ারল্যাস কোন কিছুতেই সাড়া পাওয়া যাচ্ছেনা এই তিন বিখ্যাত পর্বতারোহীর। এরা হচ্ছেন আইসল্যান্ডের জন স্নোরি, পাকিস্তানের মোহম্মদ আলী সাদপারা ও চিলির হুয়ান পাবলো। তাদের উদ্ধারে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দুটো হেলিকপ্টার অভিযান শুরু করেছে।

জন স্নোরি ও মোহাম্মদ আলী সারদাপা ছবি: জন স্নোরির ফেইসবুক পেইজ থেকে

পর্বতারোহণের ইতিহাসে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এ পর্বতে প্রথমবারের মতো শীতকালীন সামিট সম্ভব হয়েছে গত মাসেই। নির্মল পুজারা ও শেরপাদের নেপালী দলের দশজন হাতে হাত রেখে শীতকালে প্রথমবারের মতো পা রাখতে পারেন এ পর্বতের চূড়ায়। এছাড়া আরো কয়েকটি দল চেষ্টা করতে থাকলেও সফল হতে পারেনি কেউ।

প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবার পর হাল ছাড়েননি স্নোরির ছোট্ট দল। অন্যদিকে সতীর্থ সার্গেই মিনগোটার মৃত্যুর ঘটনার পরও হুয়ান পাবলো অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। ৫ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের সময় রাত ১ টায় সামিটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। স্নোরি ও মোহাম্মদ আলী দুজনেই পরিকল্পণা ছিলো সাপ্লিমেন্টারী অক্সিজেন ছাড়াই সামিট করবেন তারা। হুয়ান পাবলোও একই পরিকল্পণা করেছিলেন।

মোহাম্মদ আলী সারদাপার কেটু সামিটের ছবি ক্রেডিট: অ্যাডভেঞ্জার জার্নাল

মোহাম্মদ আলী সাদপারা পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠ পর্বতারোহী। তার ঝুলিতে রয়েছে ৮,০০০ মিটার নাঙ্গা পর্বত শীতকালে সামিটের অভিজ্ঞতাও। ছেলে সাজিদ আলী সাদপারা উদীয়মান পর্বতারোহী, যিনি সামিট করেছেন কেটুও (শীতকালে নয়)। অক্সিজেনের সিলিন্ডার ঠিকমতো কাজ না করায় সাজিদ ফিরে আসেন ক্যাম্প থ্রিতে। শেষবার গতকাল পাকিস্তান সময় ১০ টায় সাজিদ তিনজনকেই বটলনেকের কাছে দেখেছেন।

এরপর থেকেই আর কোন খোঁজ মিলেনি এই তিনজনের। ধারণা করা হচ্ছে তাদের জিপিএস -৪২ ডিগ্রী তাপমাত্রায় আর কাজ করছেনা। এছাড়া সঙ্গে থাকা ওয়ারল্যাসেও কোন সাড়া-শব্দ নেই। দীর্ঘ সময় অতি উচ্চতায় থাকার কারণে সাজিদকে ক্যাম্প ওয়ানে নামিয়ে আনা হয়েছে। সাড়া পাওয়া গেলে দুজন নেপালী শেরপা প্রস্তুত রয়েছেন তাদের সাহায্য করার জন্য।

রওনা দেবার সময় ধারণা করা হয়েছিলো ১৭ ঘন্টায় সামিটে পৌছাবেন তারা। ৫ তারিখে আবহাওয়া ভালো থাকলেও আজ থেকে আবহাওয়ার অবস্থা ভালো যাচ্ছেনা কেটুতে। ৩০ ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর তাই এ পর্বতারোহীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কী ঘটেছে বিশ্বসেরা এই তিন পর্বতারোহীদের ভাগ্যে সেটা জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সবাই।

ফিচার ছবি: জন স্নোরির  ইন্স্টাগ্রাম থেকে

 

 

About Muhammad Hossain Shobuj

Check Also

বিশ্বের ২য় সর্বোচ্চ পর্বতে শীতকালীন সামিটের ইতিহাস রচিত

সারা বিশ্বে ৮,০০০ মিটারের চেয়ে বেশি পর্বতের সংখ্যা মাত্র ১৪ টি। এর মধ্যে বাকি তেরটিতেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *