সিকিমের জিরো পয়েন্ট যেতে পারবে বাংলাদেশিরা: পতাকা বহন না করার অনুরোধ

বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর গত ৯ ই মে ২০২২ থেকে আবার জিরো পয়েন্ট যেতে পারছেন বাংলাদেশের পর্যটকরা। এর আগে সিকিমের সংরক্ষিত কিছু এলাকায় বাংলাদেশি পর্যটকদের দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো অপূর্ব সুন্দর ১৫,৩০০ ফিট উচ্চতার নর্থ সিকিমের সর্বশেষ স্থান জিরো পয়েন্ট। যার ফলে ঈদের বন্ধে নর্থ সিকিম যাওয়া পর্যটকরা যেতে পারেননি জিরো পয়েন্ট

বাংলাদেশে এবার ঈদের লম্বা ছুটিকে সামনে রেখে প্রায় দুই লাখ পর্যটক ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হিল স্টেশন দার্জিলিং ও স্বায়ত্বশাসিত রাজ্য সিকিম ভ্রমণে যান। যারা সিকিম ভ্রমণে বের গিয়েছিলেন তাদের একটি বড় অংশই গ্যাংটক থেকে বরফ দেখার জন্য লাচুং প্যাকেজ নিয়ে নর্থ সিকিম ঘুরতে যান।  এই প্যাকেজে সাধারণত পর্যটকরা এক রাত লাচুংয়ে থেকে পরের দিন খুব ভোরে ইয়ামথাং ভ্যালি ও জিরো পয়েন্ট ঘুরে আসেন।

গতকাল সিকিমের জিরো পয়েন্টে বাংলাদেশি পর্যটক। ছবি রায়হান রিয়াদ

কিন্তু ঈদের বন্ধে সিকিম বেড়াতে যাওয়া পর্যটকরা ইয়ামথাং ভ্যালির পরে আর যেতে পারেনি। গত এক সপ্তাহে অন্তত ৩০ হাজার বাংলাদেশি পর্যটকরা জিরো পয়েন্ট না যেয়েই ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। সিকিমের গন্তব্যগুলোর মধ্যে এই মুহূর্তে জিরো পয়েন্ট ছাড়া অন্য কোথাও বরফ না থাকায়, অনেকেরই বরফ ছুয়ে দেখার ইচ্ছে পূরণ হয়নি। ইয়ামথাং ভ্যালী থেকে দূরের তুষারবৃত পাহাড় দেখেই ফিরে আসতে হয়েছে তাদের।

গ্যাংটক ভিত্তিক সানফ্লাওয়ার ট্রাভেলের পোস্ট

সিকিমের ট্যুর অপারেটর সানফ্লাওয়ার ট্রাভেলস জানিয়েছে গতকাল থেকেই আবার জিরো পয়েন্ট যেতে পারছে বাংলাদেশি পর্যটকরা। তবে কোন ধরণের পতাকা বহন না করার জন্য এবং কোন স্থানে পতাকা প্রদর্শন না করার জন্য তারা অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশি পর্যটকদের। এছাড়া লাচুং বা সাংঙ্গু লেকে যাওয়ার জন্য অন্তত একদিন আগে এক কপি ছবি, পাসপোর্টের ফটোকপি, ভিসার ফটোকপি ও ইনার লাইন পারমিটের কপি (যেটা রংপো/মেল্লী শহর থেকে দেওয়া হয়) নিয়ে প্যাকেজ বুক করতে অনুরোধ করেছে তারা।

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সিকিম চমৎকার একটি জায়গা। যারা সিকিম যাচ্ছেন দয়া করে নিচে বর্ণিত অনুরোধগুলো রাখবেন:

১. সিকিমের জন্য আলাদা অনুমতির প্রয়োজন পড়ে। তাই সিকিমে ঢোকার মুখে রংপো শহরে এক কপি ছবি, পাসপোর্টের ফটোকপি ও ভিসার ফটোকপি দিয়ে অনুমতি সংগ্রহ করবেন। ইনার লাইন পারমিট পেলে সেটা ট্যুরিস্ট ইনফো সেন্টারের আগের গলিতে এফআরও অফিসে দেখিয়ে পাসপোর্টে সিল নিয়ে সিকিমে প্রবেশ করবেন।

২. চীন সীমান্তবর্তী অনেকগুলো জায়গা বিদেশি পর্যটকদের জন্য নিষিদ্ধ। ভারতীয় সেজে এসব জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। যেমন গুরুডংমার লেক, বাবা মন্দির, নাথুলা পাস ও লাচেন। সাম্প্রতিক সময়ে এরকম পেলে সরাসরি জেলে প্রেরণ করা হচ্ছে।

৩. আরামে ঘোরাঘুরির করার জন্য পশ্চিম সিকিম বেছে নিতে পারেন। কালুক, রিংচিংপং, ওখরে, পেলিং এসব জায়গায় কোন রেস্ট্রিকশন ছাড়া ঘোরাঘুরি করতে পারবেন। খরচ ও ভিড়ও কম অনেক। পারমিশন মেল্লী শহর থেকে নিতে পারবেন।

৪. যেদিন সিকিম থেকে বের হয়ে যাবেন সেদিন এক্সিট পয়েন্টে (রংপো/মেল্লীতে) অবশ্যই থামবেন এবং পাসপোর্টে এক্সিট সিল নিবেন। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যপারর।

৫. সংরক্ষিত এলাকা বলে এখানে পতাকা উত্তোলন/বহনের ব্যপারে নিষেধাজ্ঞা আছে। তাই জাতীয় পতাকা বহন ও প্রদর্শন থেকে বিরত থাকবেন।

৬. সিকিম খুব পরিস্কার পরিচ্ছন্ন জায়গা, দয়া করে সেখানে কোন রকম ময়লা আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেননা। নির্ধারিত জায়গায় ময়লা ফেলবেন।

ফিচার ছবি Sandipan Paul

About Muhammad Hossain Shobuj

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করে পরবর্তীতে আইবিএ থেকে এক্সিকিউটিভ এমবিএ করেছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেন। লেখালেখিটা শখের কাজ, ঘোরাঘুরিও। এ পর্যন্ত দেশের ৬৩ টি জেলা ও ১২ দেশে ঘুরেছেন।

Check Also

অবশেষে চালু হচ্ছে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যকার তিন ট্রেন

কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে চালু হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার তিনটি ট্রেনই। করোনার একেবারে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.