Breaking News

সিকিমের জিরো পয়েন্ট যেতে পারবেনা বাংলাদেশি পর্যটকরা

২০১৮ সালে সিকিম বাংলাদেশিদের জন্য পুণরায় খুলে দেবার পর থেকে বাংলাদেশের মানুষের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। অনেকেই গরমের সময় বেড়াতে আসেন সিকিমে। তাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ, বাংলাদেশি পর্যটকরা যেতে পারবেন না সিকিমের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য জিরো পয়েন্ট।

নর্থ সিকিমের চীন সীমান্তঘেষা একেবারে শেষ বিন্দু ইয়ামেস্যামডং যা জিরো পয়েন্ট নামে পরিচিত।  এর পরে বেসামরিক লোকজনের চলাচল নিষিদ্ধ। ইয়ামথাং ভ্যালীর থেকে জিরো পয়েন্টের দূরত্ব ২৬ কিমি। রাস্তার দুপাশের বরফে ঢাকা পর্বতমালায় ঘেরা ইয়ামথাং পাড়ি দিয়ে পৌঁছাতে হয় ১৫,৩০০ ফিট উচ্চতার জিরো পয়েন্টে।

ইয়ামথাং ভ্যালী ছবি রিয়াদ

মার্চ-এপ্রিলে মাস জিরো পয়েন্ট যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়। এসময় সেখানে বরফ জমে থাকে, আবার রাস্তাও খোলা থাকে। মে মাসেও হাল্কা বরফের দেখা মিলে এখানে। সাধারণত বাংলাদেশ থেকে যারা যায়, তারা সাধারণত লাচুং প্যাকেজের সাথে জিরো পয়েন্ট বেড়াতে যান।

লাচুংয়ে রাতে থেকে তার পরের দিন সকালে জিরো পয়েন্ট হয়ে ফিরে আসার সময় ইয়ামথাং ভ্যালী ও রডোডেনড্রন স্যাংচুয়ারী দেখে ফিরে আসেন। তবে এখন থেকে লাচুং প্যাকেজে বাংলাদেশী নাগরিকরা যেতে পারবেন না জিরো পয়েন্ট। ইয়ামথাং ভ্যালী দেখেই ফিরে আসতে হবে। আগেও অবশ্য জিরো পয়েন্ট যাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি আনুষ্ঠানিক ছিলোনা। তবে ড্রাইভারদের ৩-৩৫০০ রুপি দিয়ে যাওয়া যেতো।

ইয়ামথাং ভ্যালীতে দুচারজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে বাংলাদেশী কয়েকজন পর্যটক আধার কার্ড জাল করে ভারতীয় সেজে সিকিমে বিদেশি নাগরিকদের জন্য নিষিদ্ধ এমন কিছু জায়গা ঘুরে এসে সেসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নজরে আসে।

এছাড়া কয়েকজন বাংলাদেশী লাচুংয়ের মাউন্ট কাটাওয়ে উঠে সেখানে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে সে ছবি তুলে ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন। এসমস্ত কারণে সেখানকার সেনাবাহিনী বাংলাদেশীদের জন্য সংরক্ষিত স্থানে যাওয়ার ব্যপারে আরো কড়াকড়ি আরোপ করে।

কোন ড্রাইভার এ নিয়ম ভংগ করলে তার গাড়িও সিজ করা হবে জানা গেছে। ফলে ঈদের ছুটিতে যারা সিকিম বেড়াতে এসেছেন তাদের কেউ বরফের দেখা পেতে জিরো পয়েন্ট যেতে পারেননি। দূর থেকে তুষারাবৃত পর্বতমালা ইয়ামথাং ভ্যালী দেখে ফিরে আসতে হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক যারা জিরো পয়েন্ট যেতে চাইছেন তাদেরকে আধার কার্ডের পাশাপাশি ভোটার আইডি কার্ড/ড্রাইভার লাইসেন্স/জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট দেখাতে হচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশী পর্যটকরা লাচুং, ইয়ামথাং ভ্যালী, ছাংগু লোক, পেলিং, কালুক, রিনচিংপং, ওখরে, বার্সে এসব জায়গায় যেতে পারছেন। এছাড়া আগের মতোই রংপো বা মেল্লী শহরে এসে সিকিম ভ্রমণের অনুমতি নিতে হচ্ছে।

ফিচার ছবিঃ উইকিমিডিয়া

About Muhammad Hossain Shobuj

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করে পরবর্তীতে আইবিএ থেকে এক্সিকিউটিভ এমবিএ করেছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেন। লেখালেখিটা শখের কাজ, ঘোরাঘুরিও। এ পর্যন্ত দেশের ৬৩ টি জেলা ও ১২ দেশে ঘুরেছেন।

Check Also

মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন নিয়ে যত প্রশ্ন

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে মোট তিনটি ট্রেন চলাচল করে। এ তিনটি হচ্ছে ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস, ঢাকা-নিউ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *