Home ভ্রমণ তথ্য ই-পাসপোর্ট করার পাঁচটি সহজ ধাপ

ই-পাসপোর্ট করার পাঁচটি সহজ ধাপ

508
0

পাসপোর্ট সাধারণত এক ধরনে ভ্রমণ নথি, যা সাধারণত একটি দেশের সরকার কর্তৃক প্রদান করা হয়। বিদেশ ভ্রমণকালে নাগরিকের পরিচয় ও জাতীয়তা নিশ্চিত করে পাসপোর্ট। একটি পাসপোর্টের প্রধান কিছু তথ্য হলো বাহকের নাম, ছবি, জন্ম তারিখ ও স্থান চিহ্নিত করণের তথ্য থাকে। যেকোনো দেশের নাগরিকের পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশে ২০০৯ সাল থেকে এমআরপি বা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট চালু রয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক ঘোষণা থেকে বেশ কয়েকবছর থেকে ই-পাসপোর্টের প্রচলন নিয়ে অনলাইন ও মিডিয়াতে বেশ আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ২০১৬ সালে জার্মানীর এক কোম্পানির সাথে ই-পাসপোর্ট বিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে ই-পাসপোর্টের গুঞ্জন মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। গত বছরের জুলাই ও নভেম্বর মাসে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারনে তা পিছিয়ে যায়। তবে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ২২ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের শুভ সুচনা হয়। ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের প্রধান বহির্গমণ কেন্দ্র গুলোতে স্থাপন করা হচ্ছে ই গেটওয়ে।

আমরা আজকে আলোচনা করবো কিভাবে সহজ ৫টি ধাপের মাধ্যমে ই-পাসপোর্ট করতে পারবেন। ধাপগুলো হলো-

ধাপ-১: আপনার বসবাসরত এলাকায় ই-পাসপোর্ট চালু হয়েছে কিনা 

ই-পাসপোর্ট প্রক্রিয়াটি চালু হওয়ার সাথে সাথেই সারাদেশে পাওয়া যাবেনা। প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র ঢাকার আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ি ও উত্তরা পাসপোর্ট অফিস থেকে পাওয়া গেছে ই-পাসপোর্ট। তবে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের পাসপোর্ট অফিস ও বিদেশের সকল দূতাবাস থেকে পাওয়া যাবে ই-পাসপোর্ট। ইতিমধ্যে ঢাকার সবগুলো পাসপোর্ট অফিসসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে ই-পাসপোর্ট। আপনার জেলা এবং থানা অনুযায়ী তথ্য জানতে ভিজিট করুন এই লিঙ্কে: https://www.epassport.gov.bd/onboarding

ধাপ-২: অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরম পূরণ করুন 

যদি আপনার এলাকাতে ই-পাসপোর্ট চালু হয়ে থাকে তাহলে আপনি ই-পাসপোর্ট করার জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার জন্য দুইটি প্রক্রিয়া রয়েছে। আপনি অনলাইন থেকেই আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারবেন। পেমেন্ট করা যাবে অনলাইন গেটওয়ে থেকে। সেক্ষেত্রে অনলাইন পেমেন্ট অপশনটি নির্বাচন করুন। এছাড়া আপনি চাইলে আবেদন পত্রের একটি পিডিএফ ফর্ম ডাউনলোড করে কম্পিউটার থেকে পূরণ করতে পারবেন। পূরণকৃত ফর্মটি প্রিন্ট করে সাথে জাতীয় পরিচয় পত্র, রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে পুরাতন পাসপোর্ট, টাকা জমাদানের রশিদ ও অন্যান্য দালিলিক প্রমানসহ পাসপোর্ট অফিস বা দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হবে। ফর্ম ডাউনলোড করতে ভিজিট করুন: https://www.epassport.gov.bd/instructions/application-form

এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, হাতে লেখা ফর্ম গ্রহণ করা হবেনা। 

ধাপ-৩: পাসপোর্ট ফি পরিশোধ

পাসপোর্ট প্রাপ্তির জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট হারে ফি পরিশোধ করতে হবে। যদি অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ করেন সেক্ষেত্রে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমেই ফি পরিশোধ করা যাবে। সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্ট দেওয়া যাবে এবং এখন পর্যন্ত চালুকৃত অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতিতে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে Visa, MasterCard, Q-Cash এবং মোবাইল ব্যাংকিং এর জন্য Bkash যুক্ত করা হয়েছে। মনে রাখবেন শুধুমাত্র বাংলাদেশ থেকে আবেদনের ক্ষেত্রেই অনলাইন পেমেন্ট প্রযোজ্য হবে।

অনলাইন ছাড়াও পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়াতে সরাসরি ই-পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়া যাবে। যখন ব্যাংকে ফি পরিশোধ করবেন সাথে পাসপোর্টের আবেদন ফর্ম থাকতে হবে। ই-পাসপোর্টের ফি নিম্নরূপ:

৫ বছর মেয়াদি ৪৮ পাতার ই-পাসপোর্ট
২১ দিনের মধ্যে রেগুলার ডেলিভারি ৪,০২৫ টাকা
১০ দিনের মধ্যে এক্সপ্রেস ডেলিভারি ৬,৩২৫ টাকা    
২ দিনের মধ্যে সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি ৮,৬২৫ টাকা

১০ বছর মেয়াদি ৪৮ পাতার ই-পাসপোর্ট
২১ দিনের মধ্যে রেগুলার ডেলিভারি ৫,৭৫০ টাকা।
১০ দিনের মধ্যে এক্সপ্রেস ডেলিভারি ৮,০৫০ টাকা।
২ দিনের মধ্যে সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি ১০,৩৫০ টাকা।

৫ বছর মেয়াদি ৬৪ পাতার ই-পাসপোর্ট
২১ দিনের মধ্যে রেগুলার ডেলিভারি ৬,৩২৫ টাকা।
১০ দিনের মধ্যে এক্সপ্রেস ডেলিভারি ৮,৬২৫ টাকা।
২ দিনের মধ্যে সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি ১২,০৭৫ টাকা।

১০ বছর মেয়াদি ৬৪ পাতার ই-পাসপোর্ট
২১ দিনের মধ্যে রেগুলার ডেলিভারি ৮,০৫০ টাকা।
১০ দিনের মধে এক্সপ্রেস ডেলিভারি ১০,৩৫০ টাকা
২ দিনের মধ্যে সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি ১৩,৮০০ টাকা।  

ধাপ-৪: ছবি ও ফিঙ্গার প্রিন্টের জন্য পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ

আবেদনপত্র এবং ফি পরিশোধ হয়ে যাওয়ার পরে প্রত্যেক আবেদনকারীকে স-শরীরে ঠিকানা অনুযায়ী নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের ছবি দেওয়ার জন্য। পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। অনলাইনে আবেদন করে থাকলে আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি, অফলাইনের ক্ষেত্রে পেমেন্ট স্লিপ, জাতীয় পরিচয় পত্র/জন্ম নিবন্ধ সনদ, রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে পুরনো পাসপোর্ট, এছাড়া আপনার কাছে সহায়ক মনে হবে এরকম যেকোনো নথি।

পাসপোর্ট অফিসে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়াদি যাচাই করা হয়। 

⦁ কাগজপত্র ও ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই।
⦁ আবেদনকারীর ফটো তোলা।
⦁ আঙ্গুলের ছাপ ও আইরিশের ছবি গ্রহণ।
⦁ যথাযথভাবে পাসপোর্ট ফি পরিশোধ হয়েছে কিনা ? 

তালিকাভুক্তির পর সরবরাহকৃত ডেলিভারি স্লিপ সংরক্ষন করুন। পাসপোর্ট গ্রহণের সময় ডেলিভারি স্লিপ/ রশিদ প্রর্দশন বাধ্যতামূলক ।

ধাপ-৫ : পাসপোর্ট অফিস থেকে ই- পাসপোর্ট সংগ্রহ 

আবেদনকারীকে সশরীরে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় আবেদনকারীর ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাথে এনরোলমেন্টের ফিঙ্গার প্রিন্টের মিল আছে কি না পরীক্ষণ করা হবে । পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় নিম্ন বর্ণিত প্রমাণ সাথে আনতে হবে । 

⦁ ডেলিভারী স্লিপ/রশিদ: এনরোলমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর প্রদেয় স্লিপ।
⦁ সর্বশেষ পুরানো পাসপোর্ট (যদি থাকে)।

বিশেষ ক্ষেত্রে উপযুক্ত বাহকের কাছে পাসপোর্ট প্রদান করা যেতে পারে।

⦁ ১১ (এগার) বছরের কম বয়সী সন্তানের পিতামাতা/বৈধ অভিভাবক নিজের জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদনকৃত পাসপোর্ট ডেলিভারি স্লিপ/রশিদ ও পূর্বের পাসপোর্ট (যদি থাকে) প্রদর্শন সাপেক্ষে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবে। 

⦁ অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্ষমতা হস্তান্তর পত্র, আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, পুরাতন পাসপোর্ট (যদি থাকে) এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র, পুরাতন পাসপোর্ট (যদি থাকে) যাচাই সাপেক্ষে পাসপোর্ট প্রদান করা হবে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here