Home চট্টগ্রাম বিভাগ মুগ্ধতায় মোড়ানো সাজেক !

মুগ্ধতায় মোড়ানো সাজেক !

343
0

সাজেক পৌঁছতে পৌঁছতে দুপুর হয়ে গেলো আমাদের । মিজোরামের গাঁ ঘেঁসে অবস্থিত এই পাহাড়ে পা ফেলতেই দুপুরের আকাশে গনগনে সূর্যের তাপ অনুভব করলাম। সূর্যি মামার চকচকে উজ্জ্বল চেহারা আর দূরের মিজোরাম পাহাড় ঠায় দাঁড়িয়েই যেনো আমাদের স্বাগত জানালো।

স্বাগতম হে অতিথি আমাদের পাড়ায়।

মেঘ মাচাংয়ে মেঘ বিলাস। ছবি: শাহীন কামাল

কিন্তু আমরা যে শুনেছি সাজেক মেঘের দেশ কিংবা মেঘের রাজ্য, এখানে ভোরের সোনামাখা রোদ আসে মেঘের ভেলায় ভেসে, চায়ের কাপেও খেলা করে মেঘ। তবে কি ভুল রাজ্যে চলে এসেছি? এই মুহূর্তে সূর্যি মামার আধিপত্য দেখে তাই মনে হচ্ছে।

ঝমঝম শব্দে লোহার ব্রিজ পেরিয়ে সাজেক উঠার পাহাড়ে যখনি ঢুকে পড়লাম। তখনি যেন চোখের পর্দা সরে গেলো, নতুন করে দেখতে পেলাম সবকিছু। উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত সারা পাহাড় চত্তর, রাস্তা-ঘাট, গাছপালা, জুম-ঘর, যেন পুরো পাহাড় সেজেছে সবুজের সাঁজে!

নির্জনে নিরিবিলি মেঘরাজ ইকো কটেজ। ছবি: ছোটন ভাই

সাজেকের দুপুরটা ছিলো রৌদ্রোজ্জ্বল, বর্ণিল। যেন রোদেরা আজ বাঁধনহারা, বাঁধভাঙা কিরণ বিলিয়ে দিচ্ছে অতিথিদের আমন্ত্রণে, প্রকাশ করছে উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনা। মায়া আর মাদকতা মেশানো ঘোর লাগানো আচ্ছন্নতায় উপভোগ করছিলাম সাজেকের প্রবেশ মুহূর্ত।

আমাদের গাড়ি পীচ ঢালা রাস্তা ধরে পাহাড়ের বাঁকে-বাঁকে, এঁকেবেঁকে উপরের দিকে উঠছে তো উঠছে।

আর বসে থাকতে হয়তো কারোই ইচ্ছে করছেনা।

মনে হচ্ছে নেমে হেটেই যাই! কিন্তু পথ যে অচেনা। গাড়ি শুধু উপরেই উঠছে থামার কোনো নামগন্ধ নেই।

সবচেয়ে চঞ্চল যে ছেলেটা খাগড়াছড়ি থেকে সারাপথ অক্লান্ত, বিরামহীনভাবে গলায় সুর তুলে ব্যতিব্যস্ত রেখেছে নিজেকে, বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ভ্রমণের আনন্দ।নিজেকে প্রমান করেছে চরম ধৈর্যশীল হিসেবে সেও বলতে লাগলো, আর কতক্ষণ?

সুদক্ষ জিপ চালক সামির ভাই উত্তর দিলেন ‘এইতো সামনেই’।

যেখানে পুঞ্জীভূত হয়ে সুখ ভাসে মেঘের নামে। ছবি: মাজহারুল জিওন

কিন্তু পথ যেনো আর শেষ হচ্ছেনা, এই অল্প সময় যেনো মনে হচ্ছিল অনন্তকাল। সাজেকের অপেক্ষায় আমরা অস্থির। অস্থিরতার মূল কারণ আগের রাতের ভ্রমণ ক্লান্তি, সবাই অফিস কিংবা ক্লাস শেষ করে বাসে উঠেছে। সবার শরীর মন প্রাণপণে খুঁজছিলো মেঘের বাড়িতে পালকের নরম বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে বিশ্রাম নিতে।

কিন্তু এখনো আমরা সেই রিসোর্টের সাক্ষাৎই পেলাম না, তবে কি রিসোর্ট এরকম কোনো জায়গায়

‘যার পরে আর রাস্তা নাই!’
‘যে জায়গা থেকে আর কোথাও যাওয়া যায়না !’

‘যার পরে চাইলেও সামির ভাই গাড়ি নিয়ে যেতে পারবেনা !’

মেঘের রাজ্যে খুঁজি তোমায়। ছ: তাহমিদ

এই সব উল্টা-পাল্টা আর এলোমেলো চিন্তাভাবনার মাঝখানে হঠাৎ করে গাড়ি থামলো তবে একদম পথের শেষ প্রান্তে এসেই। যার পরে গন্তব্য নেই, চাইলেই যাওয়া যাবেনা হুট করে কোথাও। খাগড়াছড়ি থেকে সেনাবাহিনীর তৈরি করা রাস্তা সাজেক পর্যন্তই রয়েছে। এরপরে গাড়ি চলাচলের আর কোনো রাস্তাই নেই। এমনকি চাইলেই এখান থেকে বের হয়ে চলে যাওয়াও সম্ভব নয় হুট করে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সাজেক ও খাগড়াছড়ি থেকে সেনাবাহিনীর প্রহরায় পর্যটকবাহী গাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল ১০ টা ও বিকেল ৩ টায়, দুইপাশ থেকেই একি সময় মেনে চলা হয়।

পাহাড়ের ছেলেবেলা। ছবি: জুয়েল রানা

এবার আমরা সবাই আড়মোড়া ভেঙ্গে সতেজ হলাম, একজন গিয়ে পার্কিং ফি আর এন্ট্রি ফি পরিশোধ করে সাজেকে প্রবেশের অপেক্ষার অবসান ঘটালো। আমরা প্রবেশ করলাম মেঘের রাজ্যে।

আগে থেকেই বুকিং করা রিসোর্টে ঢুকে গেলাম হুড়মুড় করে। কোনো দিকেই না তাকিয়ে। রুম বুঝে পেতেই যেনো সবার গায়ে ভর করলো রাজ্যের ক্লান্তি। রুমে প্রবেশ করেই সবাই লুটিয়ে পড়লো বিছানায়। রিসোর্ট থেকে ডাক আসলো পূর্বে অর্ডার করা খাবার তৈরি!

এই খবর কর্নকুহরে প্রবেশ মাত্রই যেনো সবাই বোধ করতে শুরু করলো আমরা অনেক ক্ষুধার্ত, পড়িমরি করে গোসলের সিরিয়াল শুরু হলো। একে একে সবাই স্নান করে খাবারের টেবিলে বসামাত্র রিসোর্টের আসল সৌন্দর্য চোখেমুখে ঝাপটার মতো এসে লাগলো।

আমরা বসে আছি একটি কাঠের তৈরি তিনতলার বারান্দায়, যেখানে তিনদিকেই খোলা। সবার চোখেমুখে চরম তৃপ্তি যেনো খাবার না খেয়েই সবার উদরপূর্তি হয়ে গিয়েছে। মিজোরাম পাহাড়ের এতো কাছে বসে আহার গ্রহণ যেনো কল্পনাতেও ছিলোনা। ডাইনিং টেবিলের লোভনীয় খাবারের থেকে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে দাড়িয়েছে প্লেট ভর্তি প্রকৃতি, সবুজ পাহাড় আর রোদের আঁকিবুঁকি, কোথাও কোথাও চিকচিক করছে স্বর্নের মতো।

এবারই প্রথম রিসোর্টের পাশে এতো কাছে পাহাড় আর আকাশ দেখলাম, মনটা খুশিতে নেচে উঠলো।

এই দৃশ্য দেখে সবাই কিছুটা আশ্বস্ত হলাম, যাক তবে মেঘের আসে-পাশেই আছি। খেতে খেতে কিছু ছবি তোলা হলো। তখনো আমরা বুঝতে পারিনি আমাদের জন্য কি বিস্ময় অপেক্ষা করছে! মেঘের কোলে,মেঘের নরম পালকে তৈরি এক বিছানায় রাত কাটাতে যাচ্ছি আমরা।

কংলাক চূড়ায় সূর্যাস্ত। ছবি: শ্রাবন্তী দিদি

হেঁটে হেঁটে উঠে গেলাম কংলাক পাহাড় চূড়ায়,সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাটালাম আর উপভোগ করলাম সূর্যাস্ত। সূর্যাস্তের সময়টাতে মনে হলো লাল প্রদীপ টা হঠাৎ করে সবুজ পাহাড়ের মাঝে হারিয়ে গেলো। সূর্যাস্তের পরে হেলিপ্যাডে বসে আড্ডা চললো বেশ সময় নিয়ে। রাত নামার সাথে সাথেই যেনো আসল সৌন্দর্য নেমে আসছিল সাজেকের।যতই রাত হচ্ছিল ততই যেন মেঘের আনাগোনা বাড়ছিল, আস্তে আস্তে পুরো পাহারের কোল ঘেসে মেঘের বিচরণ লক্ষ করা যাচ্ছিল।

প্রকৃতির সাথে লুকোচুরি। ছবি: হাবিব ভাই

রাতে সাজেকের নির্জন রাস্তায় হাটলাম, আবারো হেলিপ্যাডে বসে গান আর আড্ডা সেই সাথে জোছনা বিলাস, আকাশে হাজারো তারার উপস্থিতি। রাতে আরো কয়েকবার এই রাস্তায় হাঁটার লোভ সামলাতে পারলাম না, তাই বের হয়ে এলাম আরো কয়েকবার। ইতিমধ্যে মেঘের আনাগোনা অনেক বেড়ে গিয়েছে, দিনের বেলায় সবুজ গাছপালায় যেখানে রোদের খেলা ছিলো এখন সেখানে মেঘের ভেলা। রিসোর্টের করিডোর থেকে মেঘ গুলোকে মনে হচ্ছিল নদীর মতো, সেই সাথে শীতের আগমনী হিমেল হাওয়া, যার জন্য রাত প্রায় শেষ হয়ে আসলেও ঘুমুতে যেতে ইচ্ছে করছিল না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও রুমে গিয়েছিলাম আগের রাতের ভ্রমণক্লান্তি দূর করার লক্ষ্যে। কিন্তু মেঘের রাজ্যে এসে, মেঘের বাড়িতে বসে, মেঘকে দূরে ঠেলে ঘরে খিল দিয়ে ঘুমানো কার শোভা পায়? তাই আবারো বের হয়ে আসলাম, বাকি সময়টুকু বারান্দার বেঞ্চিতে শুয়ে মেঘের কোলে মাথা রেখেই কাটিয়ে দিলাম।

সদা প্রবাহমান রিসাং ঝর্ণা। ছবি: রাকিব অপু

খুব সকালে সূর্য্য ওঠার আগে হয়তো ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম, ঘুম ভাঙলো বন্ধু স্যামির ডাকে, চোখ কচলে, উঠে দাঁড়িয়েছি। কংলাক পাহাড়ে যাবো সূর্যোদয় দেখতে, এরকম ভাবতে ভাবতে সামনে তাকাতেই শরীরের প্রতিটি লোম জেগে উঠলো! বিস্মিত হয়ে ভুলে গেলাম সামনে-পিছনের সব, যেনো সব কিছুই, এক মুহূর্তে ভুলে গেলাম।

চোখের সামনে মেঘের উড়াউড়ি, এতোই সামনে একদম হাতের নাগালে। যতোটা সামনে হলে আমরা একজন আরেকজনের নিঃশ্বাস উপলদ্ধি করতে পারি। যতোটা কাছে হলে আমরা একজন আরেকজনকে ছুয়ে দিতে পারি। করিডোরে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে আমি দুকূল বেয়ে উপচে পর জলে যৌবনবতী কোনো নদীর পাড় ঘেষে দাড়িয়ে আছি। নিজের চোখকেও যেনো বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিলো স্বপ্নপুরী, যেরকমটা বিভিন্ন সিনেমায় দেখি। কাছেদূরে ততোদূর চোখ যায় মেঘ মেঘ আর মেঘ, মেঘে মোড়ানো, মেঘে জড়ানো চারিদিক।
মেঘে মেঘে একাকার আজ প্রকৃতি।

বিস্মিত ঘোর লাগানো সাজেকের ভোর। ছবি: জুয়েল রানা

কিছুক্ষণ পরে পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরে নেমে এলাম রিসোর্টের নিচে। উদ্দেশ্য সূর্যোদয় দেখা কংলাক চূড়া থেকে কিন্তু এতো সময় পাওয়া গেলোনা, হেলিপ্যাড পর্যন্ত পৌঁছতেই সূর্যিমামা নিজের আগমনী গান শুনিয়ে দিলেন তাই হেলিপ্যাড থেকেই দেখলাম সূয্যি মামার আগমন, মিজোরাম পাহাড় থেকে গতকালের হারিয়ে যাওয়া লাল প্রদীপটা প্রকাণ্ড সৌর্য-বীর্য নিয়ে উথিত হলো পূর্বের আকাশে। পাহাড়ের চূড়ায় দেখলাম সূর্যোদয়।

মেঘে ঢাকা সাজেক। ছবি: জুয়েল রানা

হেলিপ্যাডের পাশের এলাকাটা বেশ রঙিন, যেখানেই একটু সমতল, সেখানেই একটি রঙিন কুটির। টিকেট নিয়ে প্রবেশ করলাম ঝারভোজে ওখানেই কাটিয়ে দিলাম অনেকটা বেলা। এবার সাজেক উপত্যকার জিরো পয়েন্ট। সাজেকের পরিচিতি চিহ্ন রুনময় রিসোটে ছবি তুললাম সবাই মিলে।

এবার ফেরার পালা, আবারো যাত্রা চান্দের গাড়ির ছাদে চড়ে সাথে বেসুরা গলায় গান, মাঝপথে পাহাড়ি ডাব আর পেপে খাওয়া।

তারপর আলুটিলা গুহা ভ্রমণ, গুহা থেকে বের হয়ে পাহাড়ি কলা খাওয়ার ধুম সাথে জল্পাই আর জাম্বুরা।

রহস্যময় সুড়ঙ্গ আলুটিলা। ছবি: রাকিব অপু

সারাদিনের ভ্রমণ ক্লান্তি ঝেরে ফেলার জন্য এবার টার্গেট রিসাং ঝর্ণা, আমার দেখা সম্পূর্ণ অন্যরকম এক ঝর্ণা, কয়েকশ ফুট উচু এবং স্লাইডিং করার মতো তৈরি ঝর্ণায় গোসল করলাম দল বেধে। তবে এই ঝর্ণা বেশ বিপদজনক ও বটে, পিছলে গিয়ে দূর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে অনেকে। ঝর্ণায় গোসল শেষে উঠার সময় আর যেন শক্তি পাচ্ছিলাম না প্রায় ৫০০ ফুট উঁচু সিঁড়ি বেয়ে আর উঠতে ইচ্ছে করছিলো না, ক্লান্ত সবাই চনমনে হওয়ার জন্য আবারো ডাবের সুধা পান করলাম।

স্থানীয় অধিবাসী কলেজ বন্ধু প্রকান্তি চাকমা বারবার ফোন করছিল দুপুরের খাবার বেলা চলে গিয়ে রাতের খাবারের সময় হয়ে গেলো আমরা কেন যাচ্ছিনা, অতঃপর বন্ধুর বাড়ি গিয়ে পৌঁছলাম সন্ধার পরে, তারপর রাতের বেলা খেলাম দুপুরের খাবার। তারপর আরেক বন্ধু শৌহার্দ চাকমার সাথে দেখা শাপলাচত্বরে অনেক সুখ-দুঃখের গল্প শেষে বিদায় নিয়ে ফেরার পালা।

রক সাজেক রিসোর্ট। ছবি: জুয়েল রানা

যাতায়াত:
সাজেক রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত হলেও ভৌগোলিকভাবে খাগড়াছড়ির সাথে সংযুক্ত। তাই যাতায়াতের জন্য ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে বাসে খাগড়াছড়ি গিয়ে জিপ/সি এন জি বা মোটর বাইকে করে সাজেকে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে সৌদিয়া, শ্যামলী, ইকোনো, শান্তি সহ আরো কিছু পরিবহনের নন এসি বাসে ৫২০ টাকায় খাগড়াছড়ি যাওয়া যায়। এছাড়া হানিফ, সেইন্ট মার্টিন শান্তি পরিবহনের এসি সার্ভিস রয়েছে। ভারা ১০০০-১১০০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে এর পরিবহনের নন এসি বাস রয়েছে, ভারা ১৯০ টাকা।

খাগড়াছড়ি থেকে জিপ ভাড়া একরাত থাকা সহ ৭০০০-৯৫০০ টাকা। সিএনজি একরাত থাকা সহ ভাড়া নিবে ২০০০-৩৫০০ টাকা। মোটরবাইক প্রতিবার যাওয়া বা আসার জন্য ১০০০-১২০০ টাকা। জিপে যাওয়া তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ। প্রতি জিপে ১২-১৪ জন যাওয়া যায়।

যোগাযোগের জন্য কয়েকটি জিপ চালকের মুঠোফোন নাম্বার:

সামির দাশ: ০১৮৫৫ ৮৬৪ ৪৫৫
রনি ত্রিপুরা: ০১৮৩৭ ৬৫৮ ৪৫৮
খোরশেদ: ০১৮২৮ ৮৫৬ ৩৩৪
জুম্মন: ০১৮১৪ ৭২৯ ২৯৬
হিমেল: ০১৫৩৪ ২০৬ ৯৭১

মিজোরামের আলতো ছোয়া। ছবি: জুয়েল রানা

আবাসন:
সাজেকে অবস্থান করার জন্য এই মুহূর্তে অসংখ্য রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ও মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায় এসব রিসোর্ট থেকে।
সবচেয়ে বেশি রিসোর্ট রয়েছে রুইলুই পাড়াতে। নির্জনে নিশ্চুপে ৩৬০° প্রকৃতি দর্শনের জন্য এখন কংলাক পাড়েতেও অনেক রিসোর্ট গড়ে উঠেছে।

রক সাজেক: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত রক সাজেক রিসোর্ট সবচেয়ে ব্যায়বহুল এবং সবচেয়ে বেশি সুযোগসুবিধা যুক্ত। প্রতিরাতের ভারা নেওয়া ১০০০০-১২০০০ টাকা।

রুন্ময় রিসোর্ট” বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত রিসোর্ট। ভারা প্রতিরাতের জন্য ৪৫০০-৫৫০০ টাকা।

মেঘ মাচাং রিসোর্টঃ সাজেকের বেস্ট ভিউ পাওয়া যায় এই কটেজ থেকে। প্রতি রাতের ভারা ২৫০০-৩৫০০ টাকা।
যোগাযোগ: ০১৮২২-১৬৮৮৭৭
ফেসবুক পেজ লিংক: https://www.facebook.com/meghmachangsajek/

মেঘ রাজ ইকো রিসোর্ট: আপনি যদি সম্পূর্ণ কোলাহল থেকে দূরে সবুজের মাঝে একা একা সঙ্গীসহ অথবা বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে চান তাহলে বেছে নিতে পারেন মেঘ রাজ রিসোর্ট। ভাড়া: ১৫০০-২৫০০ টাকা।
যোগাযোগ: ০১৮৭৯-৮০৮০৩০
ফেসবুক পেজ লিংক: https://www.facebook.com/Meghrajecoresortsajek/

মেঘপুঞ্জি রিসোর্ট: ইনফিনিটি ভিউসহ চারটি আলাদা আলাদা কটেজ সমৃদ্ধ রিসোর্ট মেঘপুঞ্জি। ভাড়া: ২৫০০-৩৫০০ টাকা।
যোগাযোগ: ০১৮১৫-৭৬১০৬৫
ফেসবুক পেজ লিংক: https://www.facebook.com/MeghpunjiResort/

ইকো ফ্রেন্ডলি ইন্টেরিয়র। ছবি: মাজহারুল জিওন

ঝুমঘর ইকো কটেজ: সাজেকের যে রিসোর্টগুলো থেকে সবচেয়ে ভালো ভিউ পাওয়া যায় তার মধ্যে ঝুমঘর অন্যতম। ভারা ২৫০০-৩৫০০ টাকা।
যোগাযোগ: ০১৮৮৪-২০৮০৬০
ফেসবুক পেজ লিংক: https://www.facebook.com/jumghorsajek

লুসাই কটেজ টিজিবি: লুসাই কটেজ টিজিবি সাজেকের অন্যতম সুন্দর কটেজ গুলোর মধ্যে একটি। ভাড়া: ১৫০০-৩০০০ টাকা।
যোগাযোগ: ০১৬৩৪-১৯৮০০৫
ফেসবুক পেজ লিংক: https://www.facebook.com/lushaicottageTGB/

মেঘাদ্রি ইকো কটেজ: সদ্য গড়ে উঠা রিসোর্টগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় মেঘাদ্রি ইকো কটেজ। ভাড়া ২০০০-৩৫০০ টাকা।
যোগাযোগ: ০১৮৮৩-৬৯৭৭২৮
ফেসবুক পেজ লিংক: https://www.facebook.com/meghadreeecoresort/

আদ্রিকা রিসোর্ট: আধুনিক সুবিধাযুক্ত চমৎকার এই রিসোর্টটি যুগল কিংবা ছোট্ট কোনো দলের জন্য মানানসই। ভাড়া ২৫০০-৩৫০০ টাকা।
যোগাযোগ: ০১৮৭৭-৭২২৮৫৯
ফেসবুক পেজ লিংক: https://www.facebook.com/adrikaecocottage/

অপরূপ সাজেক। ছবি: হাবিব ভাই

খাবার দাবার: সাজেকের বেশিরভাগ রিসোর্টেই অর্ডার দিলে খাবার প্রস্তুত করে দেয়ার ব্যাবস্থা আছে । এছাড়াও বেশ কিছু খাবারের রেস্তোরাঁও রয়েছে। রেস্তোরাঁগুলোতে বাংলা খাবার, ফাস্ট ফুড ও পেস্ট্রিসহ পাবেন পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার। কয়েকটি জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টের যোগাযোগের নাম্বার:

ছিম্বাল রেস্টুরেন্ট: পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী খাবার ও স্বাদে ইতিমধ্যে বেশ নাম কুড়িয়েছে ছিম্বাল রেস্টুরেন্ট।
যোগাযোগ: ০১৬৩৯-৭০০১৪১
ফেসবুক পেজ লিংক: https://www.facebook.com/chhimbalrestaurant/

প্রস্তুত হচ্ছে মুখরোচক ব্যাম্বো চিকেন। ছবি: রাকিব অপু

মনটানা রেস্টুরেন্ট: সাজেকের ভ্রমণকারী পর্যটকদের কাছে মনটানা রেস্টুরেন্টের খাবার বেশ জনপ্রিয়।
যোগাযোগ: ০১৮৭৯০৮৬৩০৮

ফুডাংকি: আধুনিক শহুরে খাবার ও পেস্ট্রি আইটেম এর জন্য ফুডাংকি রেস্টুরেন্ট বেশ নাম ছড়াচ্ছে।
যোগাযোগ: ০১৮৬৯-১৫৭৬৬৬
ফেসবুুুক পেজ লিংক: https://www.facebook.com/foodnki/

এছাড়া মারুতি অর্ডার হোটেল, চিলেকোঠা, অবকাশ, কাশবনের খাবার অন্যতম।

ফিচার ছবি: শাহীন কামাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here