কয়রা আমি বেশ কয়েকবার গিয়েছি আগে। কিন্তু খুলনা-কয়রা লঞ্চ চলে সেটাই জানতামনা। যখন জানলাম তখন একদিন পরিকল্পণা করেছিলাম একদিন লঞ্চে যাবো কয়রা বা গাবুরা। অবশেষে গেলাম, তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিকল্পণা নিয়ে। সাইকেল সংগে নিয়ে আমরা ৮ জন খুলনা থেকে লঞ্চে উঠে পড়লাম।

কয়রার লঞ্চ ছাড়ে রাত ১০ টায়। ছবি: সবুজ

বেশ গরম পড়েছে খুলনায়। অথচ রাত ১০ টায় লঞ্চ ছাড়ার পর পুরো শীতল বাতাস রূপসার বুকে। কেবিনে যেতেই ইচ্ছে করছিলোনা। কখন যে রাত ২ টা বেজে গেলো টেরই পাইনি। খুব সকালে সুন্দরবন দেখা যাবে প্রায় ৪৫ মিনিট, আবার সাইকেল চালিয়ে ফিরবো, এসব বিবেচনা করে রাতে ঘুমাতে গেলাম কেবিনে।

আকাশে মেঘের ঘনঘটা। ছবি: সবুজ

এলার্ম দিয়ে রেখেছিলাম, খুব ভোরে ঘুম ভাংতেই কেবিনের ছোট্ট জানালা দিয়ে দেখি ভোর হচ্ছে, সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আমাদের লঞ্চ। কিন্তু বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছা করছেনা। তাই শুয়ে শুয়েই দেখছিলাম। কিন্তু যখন উঠলাম তখন দেখি সুন্দরবন পার হয়ে চলে এসেছি আমরা।

গাবুরার লঞ্চঘাট। ছবি: সবুজ

অবশ্য নদী পাড়ের জনপদ আর বৃষ্টি দেখতে দেখেতে সময় ভালই কাটছিল। যখন নামলাম, তখনও বৃষ্টি পড়ছে। বৃষ্টির মধ্যেই সাইকেল চালানো শুরু করতে হলো। এরপরই শুরু হলো ভয়াবহ বিপদ, গাবুরা থেকে শ্যামনগরের রাস্তা ভয়াবহ কাদা, অনেক কষ্টে কিছুদূর যেয়ে আত্মসমর্পণ করলাম। নদী পার হয়ে কয়রা চলে আসলাম।

পুরো ট্রিপের ভিডিও

এবার অবশ্য রাস্তা ভালো পেলাম। কয়রা বাজারে সুস্বাদু কাইন মাগুর আর টেংরা দিয়ে ভাত খেয়ে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আমরা খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। সব মিলে তখনও ৯৭ কিমি বাকি। চুকনগর আসতেই রাত ৮ টা বেজে গেল।

চুই ঝালের খাসির মাংস। ছবি: সবুজ

সেখানে চুইঝালের খাসির মাংস দিয়ে ভাল করে খেয়ে ধীরে সুস্থে চালিয়ে রাত ১১ টার দিকে আবার খুলনা ফিরে আসলাম। লঞ্চে একটা বিষয় মনে রাখবেন, নদীতে কোন অবস্থাতেই প্লাস্টিকের কোন কিছু ফেলবেন না। এছাড়া লঞ্চের স্টাফরা বিনগুলো নদীতেই খালি করে, তাই অপঁচনশীল কিছু থাকলে সংগে নিয়ে আসবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here