হিমালয় পর্বতশ্রেণীর দূর্গম মেরা পর্বতে জাফর সাদেক

বাংলাদেশ থেকে নেপালের যে পর্বতগুলোতে সবচেয়ে বেশি অভিযান হয় তার মধ্যে মেরা পিক অন্যতম। ৬,৪৭৬ মিটার (২১,২৪৭ ফুট) উচ্চতার এ পর্বতটি বাংলাদেশী পর্বতারোহীদের জনপ্রিয় লক্ষ্য বলা যায়। তবে যে পরিমাণ অভিযান এ পর্বতে পরিচালিত হয়েছে তার তুলনায় সাফল্যের হার নগণ্য বলা চলে। এবার এই দূর্গম মেরা পর্বতে এ বছরের প্রথম সাফল্য ধরা দিলো জাফর সাদেকের হাতে। গত ৩০ অক্টোবর ২০২২ এ পর্বত শৃঙ্গে আরোহণ করেন তিনি।

কিশোরগঞ্জের ছেলে জাফর সাদেক পেশায় একজন ব্যাংকার, তিনি বর্তমানে রূপালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। ঢাকা কলেজের বাংলা সাহিত্যের প্রাক্তন ছাত্র, জাফর নেশায় পুরোপুরি অভিযাত্রীক। ২০১৮ সালে তিনি এভারেস্ট বেইজ ক্যাম্পে পৌছান। বাংলাদেশের রানিং কমিউনিটিতেও তিনি পরিচিত মুখ। গত কয়েকবছরে অসংখ্য ম্যারাথন সম্পন্ন করেন তিনি।

দূর্গম মেরা পর্বতের পথে জাফর সাদেক

এর মধ্যে ট্রাভেলার্স অফ বাংলাদেশের আয়োজনে করে মেরিন ড্রাইভ আল্ট্রা ম্যারাথনে তিনি ৫০ কিমি দৌড় সম্পন্ন করেছেন। আগামীতে একই ম্যারাথনে ১০০ কিমি দৌড়ানোর পরিকল্পণা রয়েছে তার। মেরা পর্বতে সাফল্য পাওয়ার আগে জাফর সাদেক বেশ কয়েকটি পর্বতে অভিযান চালিয়েও সাফল্যের দেখা পাননি। এর মধ্যে আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট কিলিমানজারোর হাই ক্যাম্প পর্যন্ত পৌছালেও চূড়ায় ওঠতে ব্যর্থ হন।

ব্যর্থতায় মুষড়ে না পড়ে নিজেকে আরো কঠিনভাবে প্রস্তুত করেছেন জাফর সাদেক। নেপালে এবারের অভিযানের শুরুতেই চূড়ান্ত খারাপ আবহাওয়ার সম্মুখীন হন তিনি। এ সময় বাংলাদেশ থেকে আসা অনেক পর্বতরাহোীরা তাদের অভিযান শেষ না করেই দেশে ফিরে যান। জাফর সাদেকও ফিরে আসার চিন্তা করছিলেন, এসময় আবহাওয়ার উন্নতি হলে নিজের অভিযানে স্থির থাকার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

২২ অক্টোবর ট্রেকিং শুরু করে সাত দিনে মেরা পিকের প্রথম বেইজ ক্যাম্প খারেতে পৌছান তিনি। এর ২৯ অক্টোবর দুপুরে হাই ক্যাম্পে পৌছানোর পর সেখানে ৫-৬ ঘন্টা ঘুমিয়ে মধ্য রাতে বের হন সামিটের উদ্দেশ্যে। ৩০ অক্টোবর  রাত ২:৪৫ মিনিটে যাত্রা করে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় নেপালের স্থানীয় সময় সকাল ৮:১৭ মিনিটে পৌছে যান মেরা পিকে চূড়ায়। ২১,২৪৭ ফিট উচ্চতার এ পর্বতের শীর্ষ বিন্দু থেকে বিশ্বের সর্বোচ্চ বেশ কয়েকটি পর্বতের দেখা মিলে।

মেরা পিকের চূড়া থেকে এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা, লোৎসে, মাকালু ও চো ইয়ো পর্বতের ৩৬০ ডিগ্রী ভিউ দেখা যায়। এজন্য দূর্গম হলেও এ পর্বতে বেশি অভিযান পরিচালিত হয়। এ অভিযান সম্পর্কে জাফর সাদেক ভ্রমণগুরুকে বলেন “হাই ক্যাম্পে ঘুমাতে পারার পরই আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। এত কম সময়ে বাংলাদেশ থেকে কেউ মেরা পিক সামিট করে আসতে পেরেছে বলে আমার জানা নেই।”

পর্বতের মোহময় সৌন্দর্য ছবি সংগৃহীত

ফেইসবুক ভিত্তিক গ্রুপ “মাউন্টেন ম্যাডনেস” এর আয়োজন করে এ মেরা পিক অভিযান। বাংলাদেশের যুবকদের উৎসাহিত করার জন্য আরো কিছু অভিযানের আয়োজন করার পরিকল্পণা আছে গ্রুপটির। জাফর সাদেক ঢাকা কলেজের বাঁধনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া তিনি ভ্রমণ ভিত্তিক ওয়েবসাইট ভ্রমণগুরু.কম এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তার লক্ষ্য সাতটি মহাদেশের সর্বোচ্চ সাতটি চূড়ায় আরোহন।

ফিচার ছবি নুরু শেরপা

About ভ্রমণগুরু ডেস্ক

Check Also

বিশ হাজার ফুট উচ্চতার আইল্যান্ড পর্বতে এক সাথে পাঁচ বাংলাদেশী

প্রথম বারের মত বাংলাদেশী ৫ জনের একটি বিশাল দল নিয়ে হিমালয়ের আইল্যান্ড পিক (৬১৬৫ মিটার/ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *