এ মাসের শুরুর দিকে সারা বিশ্ব আলোচনায় উঠে আসেন মার্কিন ফটোগ্রাফার কিট্টিয়া পাউলোস্কি। নেপালের খুম্বু এলাকায় স্নো লেপার্ডের দূর্দান্ত সব ছবি তুলেছেন দাবি করেছিলেন তিনি। তুষার শুভ্র পর্বতের পটভূমিতে স্নো লেপার্ডের অসম্ভব সুন্দর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চোখে পড়েনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুস্কর। ছবি সংক্রান্ত বিশ্বের নামকরা ওয়েবসাইটগুলোতে ফলাও করে ছাপানো হয়েছিলো ছবি ও ছবির পেছনের গল্প।
কিন্তু অ্যালপাইন ম্যাগাজিন বলছে কিট্টিয়ার তোলা সব ছবিই কোন ধরণের কারসাজি (মূলত ফটোশপের মতো সফ্টওয়্যার ব্যবহার করে) করে বানানো হয়েছে। মাউন্টেন ফটোগ্রাফার ও মাউন্টেন ওয়াইল্ড লাইফ বিশেষজ্ঞের দল এ ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে এমনটাই রায় দিয়েছে। কিট্টিয়ার দাবী করা সবগুলো ছবির অন্তত তিনটিতে কয়েকটি ছবি জোড়া দিয়ে বানানো হয়েছে। এছাড়া ছবি তোলার যে গল্প দেয়া হয়েছে তাও পুরোপুরি বানোয়াট বলে মনে করছে তারা।
এর আগে কিট্টিয়া দাবী করেন নেপালের গোরাক শেপ অঞ্চলে তিনি ট্রেক করার সময় স্নো লেপার্ডের পায়ের ছাপ দেখে অনুসরণ করে মাউন্ট পুমোরির সামনে তার ক্যামেরার ল্যান্সে প্রথমে পাথর ভাবলেও পরে বুঝতে পারেন সেটা স্নো লেপার্ড। যে স্থানে তিনি স্নো লেপার্ডের ছবি তুলেছেন দাবী করেছেন, তার উচ্চতা ৬,৩০০ মিটার। এ উচ্চতায় স্নো লেপার্ডের আসার সম্ভাবনা একেবারেই কম বলে বলছেন ওয়াইল্ড লাইফ এক্সপার্টরা।

ফ্রান্সের বিখ্যাত ওয়াইল্ড লাইফ এক্সপার্ট ভিনসেন্ট মুনিয়্যার বলছেন স্নো লেপার্ড নাম হলেও দূর্লভ এ প্রাণীটি খুব কমই বরফে পা রাখে। এরা মূলত তাদের খাবার পাওয়া যাবে এরকম পাথুরে এলাকাতেই থাকে তারা। অধিকাংশ ওয়াইল্ড ফটোগ্রাফার স্নো লেপার্ডকে খুব দ্রুত চলে যেতে দেখেছেন, যার কারণে এর ছবি তোলা প্রায় অসম্ভব। ভিনসেন্ট বলছেন কিট্টিয়ার ছবির স্নো লেপার্ড কোনভাবেই সত্য হতে পারেনা।

অন্যদিকে মাউন্টেন ফটোগ্রাফাররা কিট্টিয়া মাউন্ট পুমোরির ব্যাকগ্রাউন্ডে তোলা ছবিটি মাউন্ট নুপৎসের একটি শৈলশিরার অংশ বলে শনাক্ত করেছেন। এ শৈলশিরার উপরেই হেঁটে যেতে দেখা যাচ্ছিলো স্নো লেপার্ডকে (জাল ছবি!)। শৈলশিরার দুপাশের দেখানো অঞ্চল অন্তত দু কিলোমিটার ব্যবধানের এলাকা থেকে নিয়ে জোড়া দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাকি সব ছবিতেও একাধিক ছবি জোড়া দেয়ার প্রমাণ মিলেছে। সবচেয়ে বড় কথা একটি ছবিতে দুই দিক থেকে সূর্যালোকের অস্তিত্ব মিলেছে!
কিট্টিয়া পাউলোস্কির এ গল্প সারা বিশ্বের বড় বড় গণমাধ্যমেও প্রকাশ করেছে। এমনকি ছবি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সাইট পেটাপিক্সেলও গুরুত্ব দিয়ে ছেপেছিলো। এ ছবির সফট কপি ১,৫০০ পাউন্ডে দেদারছে বিক্রি হয়েছে। অ্যালপাইন ম্যাগাজিনকে কিট্টিয়ার পাঠানো ছবিতে ছবির তারিখ দেয়া ছিলো ০১/০১/২০১৮। এরপর তারা আরো গবেষণার জন্য ছবির “র ফাইল” পাঠানোর অনুরোধ করলে কিট্টিয়া আর কোন সাড়া দেননি।

এছাড়া নিজেকে ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার দাবী করলেও তার আগের কোন ছবি খুঁজে পাওয়া যায়নি। নেপালে তার যে সমস্ত ছবি প্রকাশ করা হয়েছে সেগুলোও অন্য কারো ছবি বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিট্টিয়ার তোলা ছবি ভাইরাল হবার পর রাতারাতি তার ইন্সটাগ্রাম একাউন্টে ৫০ হাজার ফলোয়ার বেড়ে যায়। তবে অ্যালপাইন ম্যাগাজিনের বিশ্লেষণ ছাপানো হবার পর কিট্টিয়া তার ফেইসবুক প্রোফাইল ও ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট ডিএকটিভ্যাট করে ফেলেন।
Feature photo: alpinemag.com
ভ্রমনগুরু your travel adviser
Missed this post. I was also among the people who shared the “fake” post ….. 🙁 😞
কম বেশি সবাই শেয়ার করছে