এ যেন কোন সিনেমার কাহিনী। গত ২৭ মে ২০২২ বন্ধুদের সাথে কুয়াকাটা বেড়াতে গিয়ে সমুদ্রে পানিতে নেমে নিখোঁজ হন ফিরোজ শিকদার। ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স অনেক খোঁজাখুজি করেও কোন সন্ধান পাননি তার। নিঁখোজ হবার সাত দিন পর আজ ৪ জুন বড় ভাইকে ভারত থেকে ফোন দিয়ে ফিরোজ জানান তিনি ভারতের চেন্নাই প্রদেশের প্রশাসনের জিম্মায় আছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায় গত বৃহস্পতিবার তিনটায় সাত বন্ধু সহ কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে চান ফিরোজ শিকদার। তিনি পটুুয়াখালির গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের মৃত মিলন শিকদারের ছেলে। আমখোলা বাজারে তার বড় ভাই গার্মেন্টস নামে একটি কাপড়ের দোকান আছে। বাজারের ব্যবসায়ী ও বন্ধদের নিয়ে তারা হোটেল রয়েল প্যালেসে উঠেন। শুক্রবার সকার ১০ টার দিকে বাকি বন্ধুদের সাথে নিয়ে সৈকতে ফুটবল খেলেন তারা।

এরপর কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্টে পানিতে গোসল করতে নামলে বাকি সব বন্ধুরা উঠে আসলেও খোঁজ মিলেনি ফিরোজের। সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবরিরা খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হন। ফিরোজের সন্ধারে পরের দিনও চলে অভিযান। দুদিনে ফিরোজের সন্ধ্যান না মেলায় তাকে মৃত ভেবে বন্ধ করা হয় অভিযান। নিঁখোজের সাত দিন পর আজ দুপুরে বড় ভাই মাসুম শিকদার ভারত থেকে একটি ফোন পান।
নিখোঁজ হওয়া মিলন শিকদারের বরাত দিয়ে তার বড় ভাই জানান গোসলের এক পর্যায়ে স্রোতের টানে গভীর পানি চলে যান ফিরোজ। সে সময় একটি কলাগাছ খুঁজে পেয়ে সেটা আঁকড়ে ধরে ভেসে থাকেন পরবর্তী ২৪ ঘন্টা। এর মধ্যে ভারতীয় একটি ট্রলারের কাছে গেলে তারাই ফিরোজকে উদ্ধার করে চেন্নাই নিয়ে যান। এখন তিনি চেন্নাইয়ের প্রশাসনের জিম্মায় আছেন। এদিকে কুয়াকাটা জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী আব্দুল খালেক জানান ফিরোজে বিষয়টি তাদেরকে জানিয়েছেন তার বড় ভাই মাসুম শিকদার।
ফিচার ছবি: বাংলানিউজ২৪
ভ্রমনগুরু your travel adviser