বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পর্যটন খাত। ভারতে কোভিডে দ্বিতীয় ধাক্কায় মাত্র কিছুদিন আগেও অবস্থা শোচনীয় ছিলো। সেখানে প্রতিদিন সনাক্ত হচ্ছিলো ৪০০,০০০ এর বেশি মানুষ, দৈনিক মৃত্যু ছাড়িয়ে গিয়েছিলো ৪,০০০ এর বেশি। এ অবস্থা পেরিয়ে এসেছে ভারত, এখন সেখানে সংক্রমণের হার ৫% এর নীচে, আর তাই ক্ষতিগ্রস্থ পর্যটন খাতকে চাঙ্গা করতে নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।
দেশটির সরকার পর্যটন ভিসা খুলে দেবার চিন্তাভাবনা করছে। এছাড়া আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদনকারী প্রথম ৫০০,০০০ পর্যটককে ফ্রি ভিসা দেবার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে দুই ডোজ টিকা দেয়া আছে এরকম পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে সিকিম। পর্যটক নির্ভর রাজ্যটি গত মার্চে কোভিড ১৯ সনাক্তের হার বেড়ে যাওয়ার পর বন্ধ করে রেখেছিলো পর্যটকদের প্রবেশ।

গত ৫ জুলাই নতুন প্রজ্ঞাপণ জারি করেছে সিকিম রাজ্য সরকার। এ প্রজ্ঞাপণে বলা হয়েছে সিকিমে দুটি প্রধান প্রবেশপথ রেংপো ও মেল্লিতে টিকা দেয়ার সনদ থাকলে কোভিড পরীক্ষা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারবেন পর্যটকরা। এছাড়া যাবতীয় হোটেল ও মোটেল শতকার ৫০ ভাগ খালি রেখে আবাসন ব্যবস্তা চালু রাখতে পারবে। সব শপিং মল ও দোকানও স্বাস্থ্য বিধি মেনে খোলা থাকবে। সব ধরণের যানবাহনও চলবে, এবং দুচাকার যানবাহনও পিলিয়ন (সঙ্গী) নিতে পারবে।

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ২০১৮ সালে পুনরায় সিকিম উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এরপর থেকেই দেশের মানুষের পছন্দের তালিকায় আছে বরফ ও পর্বত ঘেরা সিকিম। তবে গতবছর করোনার একেবারে শুরুর দিকেই সিকিমে পর্যটক নিষিদ্ধ করে দেয় রাজ্যটির সরকার। এর কিছুদিন পরে ভারতও সকল পর্যটক ভিসা বাতিল করে দেয়।
অক্টোবরে সিকিম পর্যটকদের জন্য আবার উন্মুক্ত করে দেয়। কিন্তু এর মধ্যে কোভিডের দ্বিতীয় ধাক্কার শুরুতে আবারও বন্ধ করা হয় সে রাজ্যের পর্যটন। ভারতীয় ধরণের বিস্তার রোধে বাংলাদেশও ভারতের সাথে সীমান্ত বন্ধ করে দেয় গত জুনে যা এখনো খুলেনি। এদিকে চলতি লকডাউনে ভারতীয় সকল ভিসা আবেদন কেন্দ্রও গত ১ জুলাই থেকে বন্ধ আছে।
বাংলাদেশেও গণহারে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সিকিমের পথ অনুসরণ করে বাংলাদেশ সরকার টিকা দেয়া ব্যক্তিদের পর্যটন স্থানে যাওয়ার অনুমতি দিলে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে থাকা দেশের পর্যটন ঘুরে দাঁড়ানোর একটা সুযোগ পেতো। এছাড়া এই শিল্পে জড়িতদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দানও জরুরী।
ফিচার ছবি: লেখক
ভ্রমনগুরু your travel adviser