২৬ই মার্চ চালু হচ্ছে ঢাকা-শিলিগুড়ি ট্রেন

সব জল্পণা-কল্পণার অবসান ঘটিয়ে ২৬ই মার্চ ২০২১ চালু হচ্ছে ঢাকা-শিলিগুড়ি সরাসরি ট্রেন। মূলত পর্যটন শিল্পের কথা মাথায় রেখে দুদেশের মধ্যে চালু হচ্ছে এই ট্রেন। গত বুধবার ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১, দুদেশের রেলের কর্মকর্তাদের বৈঠক থেকে জানানো হয়েছে এ সিদ্ধান্ত। ভারতের নিউ-জলপাইগুড়ি (এনজেপি) হয়ে হলদেবাড়ি হয়ে সীমান্ত পার হবে ট্রেনটি। এরপর বাংলাদেশের চিলাহাটি, নীলফামারী, পার্বতীপুর, হিলি, নাটোর ঈশ্বরদী আর টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকায় আসবে।

প্রথমত সপ্তাহে দুদিন চলাচল করবে এ ট্রেন। চাহিদার উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরো বাড়ানো হতে পারে। প্রতি মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার বেলা দুটার সময় নিউ-জলপাইগুড়ি (এনজেপি) থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে, পৌছাবে রাত ১১ টায়। কিছু সময় থেকে আবার রাত ১ টার দিকে ছেড়ে যাবে ভারতের উদ্দেশ্যে, সকাল নাগাদ এনজেপিতে পৌছাবে। এ ট্রেনে সময় লাগবে প্রায় ৯ ঘন্টা।

বাংলাদেশের অংশের  ইমিগ্রেশন হবে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আর ভারতের অংশে ইমিগ্রেশন হবে নিউ-জলপাইগুড়ি (এনজেপি) স্টেশনে। এই ট্রেনের নাম এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আরো দুটি ট্রেন চলাচল করে। এগুলো হচ্ছে ঢাকা-কলকাতার মধ্যে মৈত্রী এক্সপ্রেস ও খুলনা-কলকাতার মধ্যে বন্ধন এক্সপ্রেস। অবশ্য করোনার কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে বন্ধ আছে এ দুটি ট্রেনই।

ভারত অবশ্য তাদের সব পর্যটক ভিসা বন্ধ করে রেখেছে। পর্যটন ছাড়া অন্য ভিসাগুলো যেমন চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা সহ সব ভিসা চালু রেখেছে ভারত। ঠিক কবে পর্যটন ভিসা চালু হবে সেটা এখনো জানা যায়নি। পর্যটনকে সামনে রেখেই এ ট্রেন চলাচলা শুরু হলে উপকৃত হবে বেশি বাংলাদেশের পর্যটকরাই। অপরদিকে ভারতে পর্যটকদের বাংলাদেশে আসার জন্য ভিসা নিতে হবে কলকাতা থেকে।

বর্তমানে বন্ধন এক্সপ্রেস ও মৈত্রী এক্সপ্রেস নামে দুটি ট্রেন চলাচল করছে দুদেশের মধ্যে

মূলত বাংলাদেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখার করতেই বেশিরভাগ পর্যটক ভারত থেকে বেড়াতে আসে। ট্রেন চালু হলেও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় তারা আসতে পারবে কিনা সে আশংকা থেকেই যাচ্ছে। শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা সেন্টার খোলার কথা অনেকবার হলেও সেটা বাস্তবায়িত হয়নি। আগে বাংলাদেশ হাই-কমিশন ভিসা ক্যাম্প করে মাঝে মাঝে শিলিগুড়িতে ভিসা দিতো, কিন্তু মেশিন রিডেবল ভিসা হবার পর সেটাও হচ্ছেনা।

আত্মীয় স্বজন ছাড়াও বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের অনেকে বাংলাদেশের বিহারগুলোতে বেড়াতে আসেন। এছাড়া ভারতের অনেক পর্যটক কক্সবাজারে, রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রামের মতো এলাকাগুলোতে বেড়াতে আসতে চান। ভিসা নিতে হলে তাদেরও প্রথমে কলকাতা যেয়ে ভিসা নিয়ে তারপর ট্রেনে উঠতে হবে।

বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য এই ট্রেন দারুণ সুবিধা করে দিবে। বর্তমানে বুড়িমারী ও বাংলাবান্ধা বন্দর দিয়ে ভারত ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকদের অনেক কষ্ট করতে হয়। হাতে গোণা কিছু ভালো বাস চলাচল করে, রাস্তার অবস্থাও খুব একটা ভালো না। দার্জিলিং, ডুয়ার্স, কালিম্পংয়ের মতো ভ্রমণ গন্তব্যগুলো বাংলাদেশের অনেকেরই প্রিয় জায়গা। তার সাথে যোগ হয়েছে ২০১৮ সাল থেকে সিকিম। সব মিলে ভালোই পর্যটক যায় এসব জায়গায়।

বাংলাদেশের অনেক পর্যটকদের পছন্দের গন্তব্য দার্জিলিং, কালিম্পং, সিকিম

এছাড়া যারা ভারতের ট্রানজিট ভিসা নিয়ে নেপাল বা ভুটান যাবেন তাদেরও অনেক সুবিধা হবে  এ ট্রেনের কারণে। বর্তমানে বুড়িমারী ও বাংলাবান্ধার চেয়ে অনেক কম সময় লাগবে ট্রেন ব্যবহার করে গেলে। এ ট্রেনের ৮৪ কিমি পথ ভারতের মধ্যে এবং ৪৪৬ কিমি পথ বাংলাদেশের মধ্যে। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যায় এ রেলপথ। ৫৫ বছর পর মুজিব বর্ষকে সামনে রেখে আবার চালু হচ্ছে এখন।

ফলে নেপাল ও ভুটানের সাথে পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এ ট্রেন।  সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ ট্রেনে সর্বমোট ১০ টি বগি থাকবে। তবে ভাড়া কত হবে সে ঘোষণা দেয়া হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে ভাড়া ১,২০০ থেকে ২,০০০ টাকার মধ্যে হবে। ২৬ই  মার্চ ২০২১ বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে উদ্বোধন করবে এ ট্রেন।

ফিচার ছবিটি প্রতীকি: লেখকের তোলা

About Muhammad Hossain Shobuj

Check Also

যুব উন্নয়নের বিকল্প পথ নিয়ে Rope4 Adventure Course 4

যুব উন্নয়নের বিকল্প পথ নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে Rope4 আয়োজন করতে যাচ্ছে Adventure …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *