বাবর আলীর পায়ে হেঁটে ৬৪ জেলা ভ্রমণ শুরু

পেশায় ডাক্তার চট্টগ্রামের ছেলে বাবর আলী আজ থেকে শুরু করতে যাচ্ছেন ৬৪ জেলা ভ্রমণ। ৬৪ জেলা ভ্রমণ অনেকেই অনেক ভাবে করলেও তিনি এবার বেছে নিয়েছেন ভিন্ন একটি মাধ্যম। সেটি হলে পদব্রজে। সাইকেল, মোটরসাইকেল, অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে ভ্রমণ করলে পদব্রজে ভ্রমণ একটি বিরল ঘটনাই বলা যায়। আমাদের উত্তরসুরী অতীশ দীপঙ্কর থেকে অনেক মুনী-ঋষিরাও এভাবে পায়ে হেঁটে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছেন। মুনী-ঋষিদের উদ্দেশ্য ছিল ধর্ম প্রচার এবং নিজেকে সন্ধান করা।

স্পিতিতে বাবর

বাবর আলীও নিজেকে খোঁজার পাশাপাশি মানুষকে ‘সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক’ ব্যবহার কমাতে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করবেন। প্রাথমিক রুট প্ল্যান অনুযায়ী তিনি এই ভ্রমণে সময় নিবেন ৭০ থেকে ৮০ দিন। আর পাড়ি দিবেন প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ।

আবাসনের বিষয়ে তিনি বেছে নিচ্ছেন বিভিন্ন ডাক-বাংলো, হোটেল, বোডিং পরিচিত অপরিচিত বাসা-বাড়িতে। চাইলে যে কেউ তাঁকে এক রাত থাকার ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। নিচে তাঁর ফেসবুকের লিংক দিয়ে দেয়া হবে। পাশাপাশি তিনি নিজেই ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতিদিন কোথায় ছিলেন কোথায় থাকবেন সেই নিয়মিত আপডেট দিবেন।

হিমালয়ের বুকে বাবর

ফেসবুকের মাধ্যমে বাবর আলী জানিয়েছেন চাইলে যে কেউ তাঁর সঙ্গে কিছুটা সময় হাঁটতে পারেন।

উল্লেখ্য ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এর আগেও দুবার ক্রসকান্ট্রি সাইক্লিং করেছিলেন, যার একটি তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ও আরেকটি আখাউড়া থেকে মুজিবনগর। হিমালয়ের অনেকগুলো রেঞ্জে অভিযান চালিয়েছে বাবর আলী, তার মধ্যে রযেছে ৬ হাজার মিটার তিনটি পর্বতও। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় অ্যাডভেঞ্চার গন্তব্য ‘কাপ্তাই কায়াক ক্লাবে’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি।

ভালবাসেন সবধরণের অ্যাডভেঞ্চার। ক্যাম্পিং, ট্রেকিং, কায়াকিং, রক ক্লাইম্বিং, র‌্যাপেলিং, জুমারিং, সাইক্লিং, বাঞ্জি জাম্পিংসহ অসংখ্য অ্যাডভেঞ্চারের সাথে জড়িত তিনি। শুধু নিজে করেন তাই নয়, তরুণদের মধ্যে অ্যাডভেঞ্চার একটিভিটি জনপ্রিয় করার কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। প্রশিক্ষণ দেন বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চারের। দেশের বাইরে ভারতেও রক ক্লাইম্বিংয়ের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন।

ঋষিকেশে বাঞ্জি জাম্পিং

তার গ্রুপের অন্যন্য কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণে যোগ দিতে নজর রাখতে পারেন ফেইসবুক পেইজটিতে: https://www.facebook.com/vertical.dreamers/

বাবর আলী ২০১৭ সালে ভারতের নেহেরু মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট থেকে বেসিক মাউন্টেনিয়ারিং কোর্স সম্পন্ন করেছেন। কায়াক নিয়ে অভিযান চালিয়েছে কাপ্তাই-রাঙ্গামাটি ও কাপ্তাই-বিলাইছড়িতে।

জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন আইওএমে কর্মরত বাবর

কিছুদিন আগ পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ‘আইওএমে’র কর্মকর্তা পদে কক্সবাজারে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় এ সম্মানজক চাকরিটি ছেড়ে দিয়ে বেছে নিয়েছেন এ জীবন। গত দুমাস কাটিয়েছেন হিমালয়ে। ৬৪ জেলায় পদব্রজে ভ্রমণ সংক্রান্ত তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসটি হুবুহু নিচে তুলে দেয়া হলো:

”এই প্ল্যানটা আমার অনেকদিনের লালন করা।চাকুরী ছাড়ার সময়ই মাথায় ছিল কমসে কম ৬ মাসের একটা ব্রেক নেব।প্রাথমিকভাবে হিমালয়ে মাস দুয়েক কাটাব সেটা আগেই ঠিক করা ছিল।এর পরে কি করা যায় সেটা থেকেই ভাবনাটা আসে।দেশের ৬৪ জেলা পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখলে কেমন হয়?

যাই হোক,অনেক প্ল্যানিং এর পরে আর কয়েকদিনের মধ্যেই আমি পথে নামতে যাচ্ছি।গত মাসখানেক ধরে খেটেখুটে একটা রুট বানিয়েছি।দেশের ৬৪টা জেলা ছুঁতে সময় লাগবে ৭০-৮০ দিন।পাড়ি দিতে হবে ৩০০০ কিলোমিটার + পথ।সবকটা জেলা ছুঁলেও সবকয়টার হয়তো জেলা সদর যাওয়া হবে না।কিছুক্ষেত্রে উপজেলা সদরেও থাকব।এই দীর্ঘ যাত্রাপথে আমার দরকার আপনাদের সাহায্য।আমার মূল যে সহায়তাটা দরকার সেটা হল আবাসন সংক্রান্ত।আমার যাত্রাপথের কোন জেলায়/উপজেলায় আপনার নিজ বাড়ী/বন্ধু/আত্মীয়-স্বজন/সহকর্মীর বাড়িতে আমার থাকার ব্যবস্থা করে দিতে পারলে আমি খুবই আনন্দিত হব।বেশ কিছু জেলা/উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে থাকার মতো ব্যবস্থা আমার করা থাকলেও আমি ওসব ডাকবাংলোতে একা রাত কাটানোর চেয়ে মানুষের সঙ্গ অধিক উপভোগ করব বলেই ধারণা।আর থাকার ক্ষেত্রে আমার এক্সপেকটেশন নূন্যতম।কোনোরকম পিঠ ঠেকাতে পারলেই হয়।পাহাড়ে যারা যায়,তারা অল্পেই তুষ্ট থাকে কিন্তু!

আবাসনের জায়গাটা মূল রাস্তা থেকে দূরে হলেও খুব একটা সমস্যা হবে না।কারণ প্ল্যান অনুযায়ী প্রত্যেকদিন সন্ধ্যা নাগাদ কোন একটা নির্দিষ্ট জায়গায় হাঁটা শেষ করে আমি যেখানে আবাসনের ব্যবস্থা হয়েছে/হতে পারে সেখানে যাব (দুরত্ব বেশি হলে এক্ষেত্রে আমি যানবাহনও ব্যবহার করতে পারি)।পরদিন ঠিক সেই জায়গাটা থেকে হাঁটা শুরু করব।
আবাসনের ব্যাপারে কেউ আমাকে হেল্প করতে পারলে এই পোস্টের কমেন্টে কিংবা ইনবক্সে জানাতে পারেন।

বিশাল এই ভ্রমণ ঠিকভাবে শেষ করাটা নির্ভর করবে অনেকগুলা ব্যাপারের উপর।নিজের শারীরিক সুস্থতা,আবহাওয়া,টানা এতদিন হাঁটার ধকল,রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা ইত্যাদিই মূল চ্যালেঞ্জ।
এই ভ্রমণকালীন Single Use Plastic এর ব্যবহার কমানোর জন্য আমি সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করে যাব।
আমার যাত্রাপথের রুট সম্পর্কে আমি আমার নিজের ওয়ালে আপডেট দিব দিনশেষে।কেউ যদি তার নিজে জেলায় হাঁটার সময় আমাকে সঙ্গ দিতে চান কিংবা কিছু নির্দিষ্ট দুরত্ব আমার সাথে হাঁটতে চান অথবা আপনার নিজ জেলা/উপজেলায় এক কাপ চা/কফি খেতে চান এই অধমের সাথে,তাহলে আমাকে অবশ্যই জানাবেন।

সবার ভালোবাসা কাম্য।”

বাবর আলীর ফেসবুক লিংক:
https://www.facebook.com/Babar.Unmad

ভার্টিকাল ড্রিমার্সের ওয়েবসাইট:
http://www.verticaldreamers.com/

ফিচার ছবি সহ সব ছবি বাবর আলীর ফেইসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত।

About Mohammad Shariful Islam

Check Also

হানিমুনের জন্য দেশের সেরা কিছু গন্তব্য

বিয়ের আগে মানুষের মাথায় প্রথম চিন্তাটা আসে মধুচন্দ্রিমা কোথায় করবে। অনেক নব-দম্পতি ভ্রমণগুরু পেইজে মেসেজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *