প্রতিনিয়ত প্রয়োজনের তাগিদে ঘুরে বেড়াচ্ছি দেশ থেকে দেশে শহর থেকে শহরে। মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছি সড়ক পথের বাস, রেল  কিংবা আকাশ পথের বিমান। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি কোনভাবেই এড়ানো সম্ভব হয় না। কিন্তু জলযানে দীর্ঘ ভ্রমণেও ক্লান্তি আসেনা, পাশাপাশি নদীর স্নিগ্ধ  বাতাস আশেপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্যে হৃদয় মনে প্রশান্তি যোগায়।  তাই আরামপ্রিয় ভ্রমণ-পিয়াসুদের কাছে জলযানে ভ্রমণ সবসময়ই আকর্ষণীয়।

সেই জলযান যদি হয় দেশের অন্যতম নিরাপদ বাহন এবং দীর্ঘতম যাত্রীবাহী রুটে তাহলে নিঃসন্দেহে সোনায় সোহাগা।  এরকম আনন্দদায়ক এক ভ্রমণের পথ এখনো চালু আছে আমাদের দেশে যা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য। আপনি চাইলে খুব সহজেই ঘুরে আসতে পারেন ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমারে করে, হয়তো খুব বেশীদিন সার্ভিসে থাকবেনা এই কমলা রকেট  খ্যাত জলযান। কারন প্রায় শত বছরের পুরনো ব্রিটিশ আমলের তৈরি এই কমলা রকেটগুলোর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে হালের আধুনিক এম ভি মধুমতি/এম ভি বাঙালির মতো নির্মানাধীন আরো জাহাজের মাধ্যমে।     

শত বছরের ঐতিহ্য প্যাডেল স্টিমার এবং সেই সাথে যুক্ত হওয়া হালের আধুনিক মধুমতি এবং বাঙালি স্টিমারগুলোতে চড়ে একই সাথে প্রায় ১৭-২০ টি নদীতে ভেসে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা নিতে পারেন, যা বাংলাদেশে আর কোন জল বাহনে নিয়মিত ট্রিপ এ সম্ভবপর নয়।

এম ভি মধুমতি জাহাজ। ছবি: জুয়েল রানা

বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, মেঘনা, ডাকাতিয়া, কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, বিষখালী, গাবখান, সন্ধ্যা, কালিগঙ্গা, কচা, বলেশ্বর, পানগুছি, খাসিয়াখালী, মংলা, পশুর ও রূপসা নদীতে দাপটের সাথে প্রায় শত বছর ধরে চলছে পৃথিবীতে বিলুপ্ত প্রায় এই নৌযান গুলো । ঐতিহ্যময় বাহনে নিরাপদ নৌ ভ্রমন, সাথে সুস্বাদু খাবার ও চমৎকার সার্ভিস পাওয়া যায় , কালের সাক্ষী এই স্টিমারগুলোতে ।

প্যাডেল স্টিমারের অভিজাত ডাইনিং রুম। ছবি: মীর আব্দুল খলিল

স্টিমার সার্ভিস যা ঐতিহাসিকভাবে রকেট সার্ভিস হিসেবে পরিচিত, এই রকেট সার্ভিস সর্বাধিক সমাদৃত তাদের মুখরোচক খাবারের জন্য। সার্ভিসের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত খাবারের মান বা স্বাদ সবই আছে অক্ষত। রসুইঘরের কারিগর কিংবা বাটলারের পরিবর্তন হলেও সংস্কৃতি আছে একইরকম।

জাহাজে উঠেই সন্ধ্যার নাস্তায় অর্ডার করতে পারেন ফিস কাটলেট, ফিস চিপস, চিকেন ফ্রাই, নুডলস কিংবা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই। রাতের বা দুপুরের খাবারে পাবেন অন্যতম জনপ্রিয় ও অতুলনীয় স্বাদের খিচুড়ি, সাদা ভাত, চিকেন, ডিম, বেগুন ভাজি, সবজি, বিভিন্ন পদের ভর্তা। খাবার শেষে চা বা কফিতে চুমুক দিয়ে উপভোগ করতে পারেন নদীমাতৃক বাংলাদেশের অতুলনীয় সৌন্দর্য।

সপ্তাহে ৪ দিন সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে বিআইডব্লিওটিসির রকেট সার্ভিস এ প্যাডেল স্টিমারগুলো ছেড়ে যাচ্ছে ঢাকা নদী বন্দরের ১৬ নং পল্টুন থেকে। অন্য দু দিন এমভি বাঙালি ও এমভি মধুমতি জাহাজ ছেড়ে যাচ্ছে।

এম ভি মধুমতিতে হ্যামকে দোল খাওয়া। ছবি: জুয়েল রানা

স্টিমারগুলোর চলাচলের রুট:
ঢাকা – চাঁদপুর – বরিশাল – ঝালকাঠি – কাউখালী – হুলারহাট – চরখালী – বড় মাছুয়া (মঠবাড়িয়া) – সান্ন্যাসি – মোড়লগঞ্জ। প্রতি বুধবার মংলা হয়ে খুলনা পর্যন্ত যায় ।

সন্ধ্যার নাস্তায় সুস্বাদু ফিস কাটলেট। ছবি: জুয়েল রানা

শনিবার – পিএস লেপচা / পিএস টার্ন
রবিবার – পিএস মাহসুদ / পিএস অস্ট্রিচ
সোমবার – এমভি বাঙালি / মধুমতি
মঙ্গলবার – পিএস লেপচা / পিএস টার্ন
বুধবার – পিএস অষ্ট্রিচ / পিএস মাহসুদ (মোংলা হয়ে খুলনা পর্যন্ত যাবে)
বৃহস্পতিবার – এমভি মধুমতী / এমভি বাঙ্গালী

ঢাকা থেকে ছাড়ে
সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে
রাত ১১:০০ চাঁদপুর ছাড়ে।
সকাল ৬:০০ বরিশাল ছাড়ে।
সকাল ৮:০০ ঝালকাঠি ছাড়ে।
সকাল ৯:৩০ কাউখালী ছাড়ে।
বেলা ১০:০০ হুলারহাট ছাড়ে।
বেলা ১১:৩০ চরখালি ছাড়ে।
দুপুর ১:০০ মাছুয়া ছাড়ে।
দুপুর ২:০০ সন্যাসী ছাড়ে।
বেলা ৩:০০ মোড়েলগঞ্জ ছাড়ে।
সন্ধ্যা ৬:০০ মোংলা ছাড়ে।
রাত ৮:৩০ খুলনা পৌঁছে।

হুলারঘাটে যাত্রা বিরতি। ছবি: জুয়েল রানা

ভোর ২:৪৫ খুলনা ছাড়ে।
সকাল ৬:০০ মোংলা ছাড়ে।
সকাল ৯:৩০ মোড়েলগঞ্জ ছাড়ে।
সকাল ১০:০০ সন্যাসী ছাড়ে।
বেলা ১১:০০ মাছুয়া ছাড়ে।
দুপুর ১:০০ চরখালি ছাড়ে।
দুপুর ২:০০ হুলারহাট ছাড়ে।
দুপুর ২:৩০ কাউখালী ছাড়ে।
বিকেল ৪:০০ ঝালকাঠি ছাড়ে।
সন্ধ্যা ৬:৩০ বরিশাল ছাড়ে।
রাত ১:০০ চাদপুর ছাড়ে।
সকাল ৬:০০ ঢাকা পৌঁছে।

স্টিমারের ঐতিহ্যবাহী খাবার। ছবি: জুয়েল রানা

ঢাকা থেকে প্রতি শুক্রবার সার্ভিসটি বন্ধ থাকে । মোড়লগঞ্জ / খুলনা থেকে প্রতি রবিবার সার্ভিসটি বন্ধ থাকে ।

বিআইডব্লিওটিসির রকেট সার্ভিসের যে কোন জাহাজ বা স্টিমারে আপনার নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে ৯৬৬ ৭৯৭৩ অথবা ০১৭১১ ১০৩ ৯২২ এই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

টিকিট সংগ্রহ করুন এখান থেকে –
বিআইডব্লিউটিসি (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন)
ফেয়ারলী হাউস: ২৪ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ
বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০।

* তথ্য: এমভি মধুমতি ফেসবুক পেজ থেকে সংগ্রহিত।

যাত্রাপথে আপনার ব্যবহৃত ময়লা আবর্জনা ফেলে নদী তথা পরিবেশ দূষণ থেকে বিরত থাকুন।

ফিচার ছবি: মীর আব্দুল খলিল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here