ভারতের উত্তরবঙ্গে যারা থাকেন এতদিন তাদেরকে ভিসা নিতে যেতে হতো ৬০০ কিলোমিটার দূরের কলকাতায়। তাদের জন্য সুসংবাদ, শিলিগুড়িতেই চালু হয়েছে বাংলাদেশ ভিসা সেন্টার। বাংলাদেশের কলকাতা এসিসটেন্ট হাই-কমিশনের আওতাধীন আউটসোর্সের কাজ পাওয়া ডিইউ ডিজিটাল গ্লোবাল সোনালী ব্যাংকের সাথে এ সেবা চালু করেছে গতমাস থেকেই। বর্তমানে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশের ভিসা ফি নেই, তবে প্রসেসিং ফি বাবদ খরচ হবে ৮২৫ টাকা।
বাংলাদেশের হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশন রয়েছে নয়া দিল্লী, মুম্বাই, গুয়াহাটি, ত্রিপুরা ও কলকাতায়। ওপার বাংলার উত্তরবঙ্গের সাথে এ পারের উত্তরবঙ্গের তিনিটি প্রধান স্থলবন্দর রয়েছে। এগুলো হচ্ছে ফুলবাড়ি (বাংলাদেশ অংশে বাংলাবান্ধা), চেংড়াবান্দা (বাংলাদেশ অংশে বুড়িমারী) ও হিলি সীমান্ত। তার মধ্যে চেংড়াবান্দা দিয়েই সবচেয়ে বেশি মানুষ চলাচল করে। বাংলাদেশি পর্যটকরা সহজে যেতে সহজে শিলিগুড়ি যেতে পারলেও, ভারতের পর্যটকদের ভিসা সংগ্রহ করতে হতো কলকাতা বা গুয়াহাটি থেকে।

এতে আসা-যাওয়া এবং ভিসার জন্য কয়েকদিন অবস্থান মিলে কয়েক হাজার রুপি খরচ হয়ে যেতো। এখন শিলিগুড়িতেই ভিসার আবেদন করা সম্ভব হওয়ায় বেঁচে যাবে এ খরচ। এছাড়া বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে উদ্বোধন হওয়া তৃতীয় ট্রেন মিতালী এক্সপ্রেসও চালু হচ্ছে আগামী পহেলা জুন থেকে। ভারতের হলদিবাড়ি ও বাংলাদেশের চিলাহাটি হয়ে চলাচলকারী এ ট্রেনটি নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ঢাকা ক্যান্টমেন্টন স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করবে। ফলে বাংলাদেশে যাওয়া-আসা আরও অনেক সহজ হয়ে গেলো। শুধু ভারতের পর্যটকরাই নয়, প্রতিবেশি নেপাল ও ভুটানের পর্যটকদের জন্য শিলিগুড়িতে ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু হওয়ায় অনেক সহজ হয়ে গেলো বাংলাদেশ ভ্রমণ।
বাংলাদেশের ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে প্রথমে অনলাইনে ভিসা আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে এই লিংক থেকে https://www.visa.gov.bd/ । ভিসার আবেদন করার সময় নিচের কয়েকটি তথ্য প্রস্তুত রেখে আবেদন করতে বসবেন:
১. বৈধ পাসপোর্ট ২. ৪৫*৩৫ এমএম ডিজিটাল ছবি (জেপিইজি ফরম্যাট ও ৩০০ কেবির মধ্যে হতে হবে)। ৩. বাংলাদেশে অবস্থানের বিস্তারিত ঠিকানা। (গ্রাম, ডাকঘর, পোস্ট অফিস, পোস্ট কোড, শহর ও দেশ এভাবে পূরণ করতে হবে)।
পর্যটন ভিসার জন্য যে সমস্ত ডকুমেন্ট লাগবে সেগুলো হচ্ছে:
১. অনলাইনে আবেদন পূরণ করা আবেদন পত্রের প্রিন্ট কপি (এ ওয়েবসাইট থেকে https://www.visa.gov.bd/)
২. সম্প্রতি তোলা ৪৫*৩৫ এমএম এর দু কপি ছবি, অবশ্য ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা হতে হবে
৩. বৈধ পাসপোর্ট
৪. ভিসা ফি প্রদানের রশিদ। (ভারতীয় আবেদকারীদের ভিসা ফি প্রয়োজন নেই, এ রশিদ অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য প্রজোয্য)
৫. পুরাতন পাসপোর্ট যদি কারো থেকে থাকে সেই পাসপোর্ট
৬. বসবাসের প্রমাণ (আধার কার্ড, ভোটার আইডি, রেশন কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং প্যান কার্ড)
৭. দুটো ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত ভ্যাকসিন হতে হবে)
৮. পেশাদার ব্যক্তির পেশার প্রমাণ ও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ থেকে নেয়া অনাপত্তি সনদ
৯. বাংলাদেশি নাগরিকের বাসভবনে থাকলে তার এনআইডির (জাতীয় পরিচয়পত্রের) একটি কপি জমা দিতে হবে।
১০. পেশাদার আইডির প্রমাণের কপি
১১. সর্বশেষ বিদ্যুৎ বিলের কপি
শিলিগুড়ির বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রের অবস্থান সোনলী ব্যাংক হোয়াইট হাউজ, ৩০৪/৩, সেভক রোড, শিলিগুড়ি ৭৩৪০০১। আর শিলিগুড়ি ফর্ম ফিলিং কেন্দ্র হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটের ২য় তলা, পানির ট্যাঙ্কির কাছে, সেভক রোড। যোগাযোগের ফোন নাম্বার: +৯১-৭২৮৯০০০০৭১ ইমেইল: info@bdvisa.com ওয়েবসাইট www.bdvisa.com। সোনালী ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে ভিসা পেতে সময় লাগবে ৭ থেকে ১০ দিন। শিলিগুড়ি আবেদনকেন্দ্রে ভিসার আবেদন জমা নিয়ে সেটা পাঠানো হবে কলকাতায়। কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ভিসা প্রসেস করে ফেরত পাঠাবে। চাইলে কুরিয়ারেও পাসপোর্ট ফেরত নেয়া যাবে, তবে সেক্ষেত্রে ৪০০ টাকা অতিরিক্ত লাগবে।
ফিচার ছবি: বিডিভিসা.কম
ভ্রমনগুরু your travel adviser