ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসী থেকে আসামের বগিবিল (ডিব্রুগড়) পর্যন্ত মোট প্রায় চার হাজার কিলোমিটার জলপথ ধরে পৃথিবীর দীর্ঘতম নৌবিহারের আয়োজন করতে যাচ্ছে ভারত। আগামী বছরের শুরুতে ১০ জানুয়ারী ২০২৩ থেকে শুরু করে ৫০ দিনে এ পথ পাড়ি দিয়ে ১ মার্চ ২০২৩ এ ডিব্রুগড় পৌছাবে প্রমোদতরী “গঙ্গা বিলাস”। এ নৌবিহার আন্তর্জাতিক নৌ-পর্যটনে ভারত ও বাংলাদেশের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত বারাণসীর গঙ্গা নদীর কাশী ঘাট থেকে যাত্রা করবে বিলাসবহুল প্রমোদতরী ”এম ভি গঙ্গা বিলাস”। এরপর পাটনা-কলকাতা হয়ে সুন্দরবন দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকবে। এদেশে ঢোকার পর মোংলা-বাগের হাট হয়ে যাবে বরিশাল। সেখান থেকে সোনারগাঁও হয়ে আরিচা হয়ে সিরাজগঞ্জ দিয়ে যমুনা নদী ধরে এগুবে। সর্বশেষ চিলামারী হয়ে বাংলাদেশ পার হয়ে আসামে ঢুকবে প্রমোদতরীটি।

বাংলাদেশে মোট ১৫ দিনে প্রায় ১,১০০ কিমি পাড়ি দিয়ে পুণরায় ভারতে প্রবেশ করবে গঙ্গা বিলাস। সুদীর্ঘ যাত্র পথটি নিরাপদ ও আনন্দদায়ক করতে বিভিন্ন ধরণের আয়োজন করা হয়েছে। এ অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণকারীদের জন্য থাকবে সাংস্কৃতিক বিভিন্ন আয়োজন। বিলাসবহুল এ জাহাজে থাকবে ১৮ টি স্যুইট ও ব্যায়ামগার। পুরো জাহাজটি ভারতে নির্মাণ করা হয়েছে। এ জাহাজটি ২০৫ ফিল লম্বা ও ৪১ ফিট প্রশস্ত।
এর আগে ২০২১ সালে ইউরোপ ভিত্তিক আমায়া ওয়াটার্স বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ নৌবিহারের ঘোষণা দিয়েছিলো। মোট ১৪ টি দেশকে সংযুক্ত করে ৪৬ দিনের এ নৌবিহার যাত্রা করার কথা আগামী ১ জুন ২০২৩ সালে। এর সর্বনিন্ম প্যাকেজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ২৬,০০০ ডলার। গঙ্গা বিলাসের প্যাকেজের দাম কত হবে তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। মোট খরচ হিসাব করে ট্যুর অপারেটর এ প্যাকেজের দাম নির্ধারণ করবে।

যাত্রাপথে কাজীরাঙ্গা ও সুন্দরবনের মতো ইউনেস্কো হেরিটজগুলোকে সংযুক্ত করবে এ নৌবিহার। এছাড়া নদী ভিত্তিক পর্যটন, বাংলাদেশ-ভারতের বাণিজ্যে জলপথের ব্যবহার, নদী পাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে প্রচার চালানো হবে এ পথে। ইন্দো-বাংলাদেশ প্রটোকলের আওতায় এ নৌবিহারের আয়োজন চলছে বলে জানা গেছে। এরা আগে নদীপথে বাংলাদেশ থেকে কলকাতা পর্যন্ত পরীক্ষামূলক জাহাজ চালানো হলেও পরে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
ফিচার ছবি ajtak.in
ভ্রমনগুরু your travel adviser