কিং কোবরা গিলে খাচ্ছে অন্য একটি সাপকে, চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে দেখা গেলো বিরল দৃশ্য

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিষধর সাপ হচ্ছে কিং কোবরা (বাংলা নাম শঙ্খচূড়)। লম্বায় এ সাপ হতে পারে ১৮ ফুট পর্যন্ত। দানবাকৃতির এ সাপটি রেগে গেলে শরীরের তিনভাগের একভাগ ৬ ফুট উঁচু করে মানুষের সমান উচ্চতায় উঠে কামড় দেবার ভয় দেখায়।  এছাড়া এক কামড়ে সবচেয়ে বেশি বিষ ঢালার ক্ষমতা রাখে কিং কোবরা, যার কামড়ে একটি হাতিও মারা যেতে পারে। তবে মানুষকে এড়িয়ে চলে বলে সাধারণত কিং কোবরার কামড়ের ঘটনা শোনা যায়না।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিষধর সাপ কিং কোবরা ছবি উইকিপিডিয়া

শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই এ সাপটি এখন বিলুপ্তির হুমকিতে আছে বলে জানিয়েছে আইইউসিএন। বাংলাদেশে সুন্দরবনের বাইরে সিলেটের বনাঞ্চল, পার্বত্যচট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের অল্প কিছু জায়গায় কদাচিৎ দেখা মিলে এ রাজকীয় সাপটির। কিন্তু নগরায়ন, পাচার, বনভূমি ধ্বংসসহ বিভিন্ন কারণে দ্রুত কমছে এ সাপের সংখ্যা। এছাড়া ভয়ংকর দেখতে হবার কারণে মানুষ দেখা মাত্র মেরে ফেলে কিং কোবরাকে।

বাংলাদেশের অল্প কিছু জায়গায় বিরল কিং কোবরা সাপকে ছবি সৈয়দ আব্বাস (সুন্দরবনে তোলা)

গত কয়েক বছরে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড, মিরসরাই ও কক্সবাজারের ‍উখিয়াতে মেরে ফেলা হয়েছে তিনটি বৃহৎ আকৃতির কিং কোবরা সাপ। নামের সাথে কোবরা থাকলেও কিং কোবরা মূলত Ophiophagus গোত্রভূক্ত, যার অর্থই হচ্ছে সাপ খাদক। এ সাপটির মূল খাবার অন্য সাপ। বিষধর হোক বা নির্বিষ হোক, কিং কোবরার সামনে পড়লে রক্ষা নেই অন্য সাপের। সাপ ছাড়াও গিরিগিটি, ডিম ও ছোট অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে এরা।

প্রায় ১২-১৩ ফিট লম্বা কিংকোবরা গিলে খাচ্ছে অন্য একটি সাপকে ছবি সম্প্রতি ভাটিয়ারী থেকে তুলেছেন কাজী ইশান

এ মাসের শুরুতে দেখা গেলে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে কিং কোবরার অন্য সাপ গিলে খাওয়ার দূর্লভ মুহূর্ত। ভাটিয়ারির ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের একটি স্পিনিং মিলের ছাদ থেকে কয়েকজন কর্মকর্তা নিচে তাকিয়ে দেখতে পান প্রায় ১২-১৩ ফিট লম্বা একটি কালো রঙের সাপ অন্য একটি সাপকে গিলে খাচ্ছে। সাথে সাথে মোবাইলে তারা এ দৃশ্যটি ক্যামেরা বন্দী করে রাখেন, পরবর্তীতে কয়েকজন বন্যপ্রাণী বিশারদ নিশ্চিত করেন খাদক সাপটি কিং কোবরাই ছিলো।

অন্য সাপটি দাঁড়াশ (নির্বিষ) হবার সম্ভাবনা বেশি। ভাটিয়ারী এলাকা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী বারৈয়াঢালা অভয়ারণ্যে এখনো বিভিন্ন ধরণের বন্যপ্রাণী টিকে আছে। তার মধ্যে অজগর, কিংকোবরা, সবুজ বোড়া, গোখরা সহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপের নিয়মিত দেখা মিলে। সাম্প্রতিক সময়ে খাবারের খোঁজে মাঝে মাঝেই সাপ চলে আসে লোকালয়ে। ভয় পেয়ে মানুষ মেরে ফেলে সাপ।

সাপ দেখে আতংকিত না হয়ে বন বিভাগ কিংবা স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনে খরব দিলে তারা এসে সাপ উদ্ধার করে তার প্রকৃত বাসস্থানে ছেড়ে দিয়ে আসবে।

ফিচার ছবি কাজী ইশান

About Muhammad Hossain Shobuj

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করে পরবর্তীতে আইবিএ থেকে এক্সিকিউটিভ এমবিএ করেছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেন। লেখালেখিটা শখের কাজ, ঘোরাঘুরিও। এ পর্যন্ত দেশের ৬৩ টি জেলা ও ১২ দেশে ঘুরেছেন।

Check Also

প্রভাতের এক লক্ষ কিলোমিটার সাইক্লিংয়ের অনন্য রেকর্ড

বাংলাদেশে সাইক্লিং জনপ্রিয় সারা দেশেই। তবে শহরগুলোতে খুব কম মানুষকে নিয়মিত সাইকেল চালাতে দেখা যেতো। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.