দেশের প্রথম বিলাসবহুল জাহাজ বে ওয়ানের যাত্রাশুরু ২১ ডিসেম্বর

কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন সরাসরি যাওয়ার জন্য ২০২০ সালের শুরুতে চালু হয়েছিলো কর্ণফুলী এক্সপ্রেস। নানা আলোচনা সমালোচনার মধ্যে বছর শেষে এবার চালু হচ্ছে বিলাসবহুল জাহাজ এমভি বে ওয়ান। আগামী ২০ ডিসেম্বর উদ্বোধনের পর ২১ ডিসেম্বর ২০২০ থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে নিয়মিত চলাচল করবে বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম এই পাঁচতারকা মানের জাহাজটি।

জাহাজের অন্দরমহল

গতবছর পর্যন্ত কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যেতে হতো টেকনাফ থেকে। প্রতিবছর শুধুমাত্র শীতকালে অনুমতি মিলতো এই সেন্টমার্টিনগামী জাহাজগুলোর। সমুদ্র উত্তাল থাকায় বছরের অন্য সময়টা সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য ট্রলার ব্যবহার করতে হতো। এবছরের শুরুতে কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের মাধ্যমে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন জাহাজ সরাসরি জাহাজ চালু হয়।

থাকবে আন্তর্জাতিক মানের রেঁস্তোরা

তবে সেপ্টেম্বর/অক্টোবর  মাসে যারা কর্ণফুলী এক্সপ্রেসে ভ্রমণ তাদের অনেকেই সী সিকনেসে (সমুদ্রে ভ্রমণজনিত অসুস্থত) ভুগেছেন। বঙ্গোপোসাগরে সৃষ্ট একাধিক নিন্মচাপের কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকায় অনেক যাত্রীই মাথা ঘুরানো, মাথা ব্যথা ও বমি সহ বিভিন্ন ধরণের সি সিকনেসে ভুগেছেন। বিশেষ করে যারা জাহাজের নিচের তলার সিট নিয়েছিলেন তারা বেশি ভুগেছেন।নভেম্বর থেকে সমুদ্র শান্ত হবার পর  এখন আর এধরণের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছেনা।

বিলাসবহুল সিট

তবু কর্ণফুলী এক্সপ্রেস কোনভাবেই বিলাসবহুল জাহাজের সংজ্ঞায় পড়েনা। ব্লু ইকোনমির প্রসারের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিলো সমুদ্রে বিচরণ করতে সক্ষম এ ধরণের বিলাসবহুল জাহাজ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ জাপান থেকে আমদানী করে আনা হয় এমভি বে ওয়ানকে। মিৎশুবিশি হেভি ইন্ড্রাস্ট্রিজের তৈরী এ জাহাজটিতে রয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইট, ট্যুইন কেবিন, ডাবল কেবিন, লাক্সারি সিট, আন্তর্জাতিক মানের রেস্টুরেন্ট, সুইমিংপুল, ড্যান্স বার সহ অনেক কিছুই।

সমুদ্রপথে ১৮-২০ নটিক্যাল মাইল গতিতে ছুটতে সক্ষম জাহাজটি দিয়ে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলগুলোতে বিলাসবহুল ভ্রমণের আয়োজন সম্ভব। তবে আপাতত এর পরিচালনায় থাকা কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স জাহাজটিকে কক্সবাজার সেন্টমার্টিন রুটেই পরিচালনা করবে। সেন্টমার্টিন আসা-যাওয়া ছাড়াও জাহাজটিতে রাতে থাকা যাবে কক্সবাজারে। সমুদ্র উপকূলে নোঙর করা অবস্থায় জাহাজটিতে রাত্রিযাপন করার আনন্দটাও নিতে পারবেন চাইলে।

বর্তমান ঘোষণা অনুযায়ী জাহাজটির সর্বনিন্ম ভাড়া ধরা হয়েছে  ২,৫০০ টাকা। বর্তমান প্যাকেজের তালিকা দেয়া হলো (জাহাজ কর্তৃপক্ষ যে কোন সময় এ ভাড়া পুননির্ধারণ করতে পারে):

রাত্রিযাপন করা যাবে সমুদ্রেও

ভাড়ার তালিকা:

১. বিলাসবহুল চেয়ার কোচ:  আসা-যাওয়া ২,৫০০ টাকা

২. সুপার ওপেন ডেক: আসা-যাওয়া ৪,০০০ টাকা

৩. প্যাকেজ ১: সিঙ্গেল বেড আসা-যাওয়া ৪,০০০ টাকা। কক্সবাজারে জাহাজে রাত্রিযাপন ৪,০০০ টাকা (রাতের খাবার সহ)

৪. প্যাকেজ ৪: ভিভিআইপি কেবিন (২ জন, আসা-যাওয়া) ২৫,০০০ টাকা। কক্সবাজারে জাহাজে রাত্রিযাপন ১৫,০০০ টাকা (রাতের খাবার সহ)

৫. প্যাকেজ ৫: বিলাসবহুল কেবিন (৪ জনের যাওয়া-আসা) ৩০,০০০ টাকা। কক্সবাজারে জাহাজে রাত্রিযাপন ১৫,০০০ টাকা।

বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ: 

01714399877

01312112108

বে ওয়ানের ফেইসবুক পেইজ: https://www.facebook.com/MV-BAY-ONE-101203971865819

দেশে যেকোন রুটে লঞ্চের টিকেট কাটতে যোগাযোগ করতে পারেন: http://www.shipticketbd.com/

ফিচার ছবি সহ সব ছবি  http://vesselfindersbd.org/ এর সৌজন্যে। লঞ্চ সংক্রান্স আপডেটেড তথ্য পেতে তাদের ফেইসবুক গ্রুপে যোগ দিতে পারেন।

About Muhammad Hossain Shobuj

Check Also

যুব উন্নয়নের বিকল্প পথ নিয়ে Rope4 Adventure Course 4

যুব উন্নয়নের বিকল্প পথ নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে Rope4 আয়োজন করতে যাচ্ছে Adventure …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *