তের বছরের কিশোরের রেকর্ড সময়ে বাংলা চ্যানেল পাড়ি

টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিন, দূরত্ব ১৬.১ কিলোমিটার। বঙ্গোপসাগরের এ চ্যানেলটির নামই বাংলা চ্যানেল। বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চারের গুরু প্রয়াত  কাজী হামিদুল হকের স্মরণে ২০০৬ সাল থেকে আয়োজন করা হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্মানজনক  এই সাঁতার। এবার ৪৩ জন প্রতিযোগীর মধ্যে বগুড়ার তের বছর বয়স কিশোর সবচেয়ে কম সময়ে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে চমকে দিয়েছে সবাইকে।

বাংলা চ্যানেল সুইমিংয়ের এবার ছিলো ১৫ তম আয়োজন। গত মার্চে এই ইভেন্ট হবার কথা থাকলেও করোনার কারণে স্থগিত হয়ে যায়। অবশেষে আজ ৩০ নভেম্বর সকাল ৯ টায় শাহ পরীর দ্বীপ থেকে শুরু হয় এই সাঁতার। ফরচুন-বাংলা চ্যানেল সাঁতারের আয়োজক ছিলো ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার ও এক্সট্রিম বাংলা। চ্যানেল সাঁতারের আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করেই এবার ফ্রিহ্যান্ডে সাঁতার কাটেন অংশগ্রহণকারীরা সবাই।

সর্বমোট ৪৩ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ২ জন নারী, একজন বিদেশী নাগরিক ও দুজন পুলিশ কর্মকর্তাও ছিলেন। তার মধ্যে ৪০ জন পুরো ১৬.১ কি মি পাড়ি দিয়ে পৌছাতে সেন্টমার্টিন পৌছাতে পেরেছেন। তবে এর মধ্যে তের বছর ৬ মাস বয়সী কিশোর রাব্বি রহমান স্থাপণ করেন অনন্য কৃতিত্ব। মাত্র তিন ঘন্টা বিশ মিনিট সময়ে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে সবচেয়ে কম বয়সে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে  ইতিহাস গড়লেন তিনি।

সাঁতরে বাংলা চ্যানেল পার হচ্ছে সাইফুল ইসলাম রাসেল ছবি ফেইসবুক পেইজ থেকে

অন্যান্যদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম রাসেল মাত্র ৩ ঘন্টা ৩১ মিনিটে শেষ করে প্রথম রানার আপ হন। আর ৩ ঘন্টা ৩৫ মিনিটে শেষ করে দ্বিতীয় রানার আপ হন সুজা মোল্লা। সেন্টমার্টিন জেটিতে সবার আগে পৌছানোর পর ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেয়া হয় রাব্বিকে। প্রথম হবার আনন্দে উচ্ছসিত কিশোর রাব্বি রহমান জানিয়েছেন তিনি বিশ্ব জয় করতে চান, তার প্রথম ধাপ ছিলো বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেয়া। তিনি এ ব্যপারে পৃষ্ঠপোষকতা চেয়েছেন সকল সংঘটনের।

বাংলা চ্যানেল সাঁতারকে বলা হয় বাংলাদেশের সেরা অ্যাডভেঞ্চার। প্রয়াত অ্যাডভেঞ্চার গুরু হামিদুল হক এ চ্যানেল সাঁতারের বিষয়টা প্রথম চালু করেন। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের  এ চ্যানেলের  “বাংলা চ্যানেল” নামটিও তাঁর দেয়া। প্রতি বছর সারা দেশে থেকে সেরা সাঁতারুরা সারা বছর জুড়ে এ সাঁতারের জন্য অনুশীলন করে থাকেন।

সফলভাবে সাঁতার শেষ করার আনন্দ উচ্ছসিত প্রতিযোগীদের একজন Jihad Hossain

আগে থেকেই এবছর কয়েকটি রেকর্ডের গড়ার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন ষড়জ অ্যাডভেঞ্চারের প্রধান নির্বাহী লিপটন সরকার। বর্ষীয়ান সাঁতারু ক্ষিতিন্দ্র চন্দ্র বৈষ্য ৬৮ বছর বয়সে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি শেষ করতে পারলে সবচেয়ে বেশি বয়সে বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দেবার রেকর্ড তার দখলে চলে যেতো। বর্তমানে এ রেকর্ডের মালিক মিজানুর রহমান যিনি ৬৭ বছর বয়য়ে বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দিয়েছেন।

প্রতিবছরের মতো এবারের আয়োজনেও নেয়া হয়েছিলো সর্বোচ্চ সতর্কতা। প্রত্যেক সাঁতারুর পেছনেই একটি করে উদ্ধারকারী নৌকা রাখা হয়েছে। এছাড়া জরুরী উদ্ধার ও ব্যবস্থাপণায় জড়িত ছিলো বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সার্ভিস বোট, নৌকা ও ডুবুরি দল। প্রতিবছর দেশের সাঁতারু ছাড়াও বিদেশী সাঁতারুরাও অংশগ্রহণ করেন এই ইভেন্টে।

ফিচার ছবি: Asif Aminur Rashid

About Muhammad Hossain Shobuj

Check Also

শীতকালীন কেটু সামিটে শীর্ষ তিন পর্বতারোহী নিঁখোজঃ উদ্ধার অভিযান শুরু

গত সপ্তাহে জন স্নোরির নের্তৃত্বাধীন তিন জনের দলের শীতকালীন কেটু সামিটের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবার পর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *