ভ্রমণের প্রিয় সঙ্গী পাওয়ার ব্যাংক

প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে প্রযুক্তি, নিত্যনতুন আবিষ্কারে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে দুনিয়াজুড়ে। হাল আমলে প্রযুক্তির ব্যাবহারের সবচেয়ে বড় উদাহরণ মুঠোফোন বা মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোনের ব্যাবহার বলে শেষ করার মতো নয়। মোবাইল এসে নীরবে জায়গা দখল করেছে অনেক প্রয়োজনীয় উপকরণের। এখন দীর্ঘ ভ্রমণ কিংবা ডে ট্যুর যেখানেই যাই আলাদা করে ক্যামেরা বা ক্যামকর্ডার খুব কম মানুষ ই বহন করি। এমনকি হালের জনপ্রিয় ডি এস এল আর ক্যামেরার জনপ্রিয়তাও অনেক ক্ষেত্রে ম্লান করে দিচ্ছে নিত্যনতুন সুবিধাযুক্ত ক্যামেরা ফোন গুলো।

মোবাইল ফোনের বহুমাত্রিক ব্যাবহারে আমরা অনেকটা আসক্ত হয়ে গিয়েছি। গান শোনা, ইউটিউব বা নেটফ্লিক্সে বিভিন্ন সিনেমা দেখা, ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ড করা, সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিয়মিত ব্যাবহারে মোবাইলের উপর আমরা যতোটা নির্ভরশীল হয়েছি সেই তুলনায় মোবাইলের ব্যাটারি বা পাওয়ার সাপ্লাই এখনো গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করতে পারছেনা। এছাড়াও এডভেঞ্চারাস ভ্রমণে অভ্যস্থ অনেকেই কয়েকদিনের জন্য হারিয়ে যায় বিভিন্ন পাহাড়ের ভাজে ভাজে কিংবা লোকালয় থেকে দূরে যেখানে থাকেনা কোনো ধরনের বিদ্যুৎ সংযোগ। এই সমস্যা গুলোকে পাশ কাটিয়ে ভ্রমণে নির্ভরশীল ভাবে পাওয়ার ব্যাকআপের জন্য ব্যাকপ্যাকে ঢুকিয়ে নিতে পারেন প্রায় মোবাইলের সমান ছোট্ট একটি গ্যাজেট পাওয়ার ব্যাংক।

পাওয়ার ব্যাংক মূলত রিচার্জেবল কিছু ব্যাটারির সমন্বয়ে তৈরি পাওয়ার প্যাক। যাকে আগে থেকে চার্জ দিয়ে সেই চার্জ জমা করে রেখে ভ্রমণে বা যেখানে চার্জ দেওয়ার ব্যাবস্থা থাকেনা সেখানে মোবাইল ফোন বা অন্যান্য বিভিন্ন রিচার্জেবল গ্যাজেট চার্জ করা যায়। এটা খুব সহজেই বহন করা যায়। পোর্টেবল একটি পাওয়ার ব্যাংকের ওজন সাধারণত ১৫০-৩০০ গ্রামের মতো হয়ে থাকে। কোম্পানি ও মডেল অনুযায়ী সাইজ ও ওজনে অনেক ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকে। আজকে আমরা পাওয়ার ব্যাংকের বিভিন্ন খুটিনাটি সম্পর্কে জানবো। 

বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন মডেলের নানারকম পাওয়ার ব্যাংক পাওয়া যায়, তবে কেনার আগে অবশ্যই কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। 

ক্যাপাসিটি বা চার্জ ধারণ ক্ষমতাঃ বাজার ঘুরে দেখে গেছে এই মুহুর্তে ৫০০০  এম এ এইচ থেকে শুরু করে ৩০০০০ এম এই এইচ পর্যন্ত ক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে আপনার মোবাইলের ব্যাটারির থেকে অবশ্যই বেশী পাওয়ারের পাওয়ার ব্যাংক নিতে হবে। মনে করুন আপনার মোবাইলের ব্যাটারির ক্যাপাসিটি ৩০০০ এম এ এইচ, আপনি ১০০০০ এম এ এইচ পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে তিনবার ব্যাটারি সম্পূর্ণ চার্জ করতে পারবেন। আপনার প্রয়োজনের সাথে মিলিয়ে নির্ধারণ করুন কতো ক্যাপাসিটর পাওয়ার ব্যাংক আপনার জন্য প্রয়োজন।                

আকার ও ওজনঃ বিভিন্ন আকার ও ওজনের পাওয়ার ব্যাংক রয়েছে। যেহেতু পাওয়ার ব্যাংক  সবচেয়ে বেশী ব্যাবহার করা হয় ভ্রমণে তাই ওজন যতো কম হবে ততোই ভালো। আকারের দিক থেকে গোলাকার এবং চারকোনা রয়েছে। লম্বাটে চারকোনা আকারের পাওয়ার ব্যাংক বহনের ক্ষেত্রে সুবিধাজনক। অনেক সময় ই আপনাকে মোবাইল চার্জে দিয়ে ব্যাবহার করা হতে পারে সেক্ষেত্রে মোবাইলের আকারের পাওয়ার ব্যাংক বহনে সুবিধাজনক। 

অন্যান্য সুবিধাঃ পাওয়ার ব্যাংকে চার্জ গ্রহণ ও প্রদানের জন্য কতো সময় লাগবে এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক,কেনার আগে অবশ্যই বিষয়টি সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। একটা ১০০০০ এম এ এইচ পাওয়ার ব্যাংক সম্পূর্ণ চার্জ নিতে সাধারণত ৪-৬ ঘন্টা সময় নিবে এক্ষেত্রে যদি কুইক চার্জার সাপোর্টেড হয় তাহলে কম সময়ে চার্জ দেওয়া যায় । হাল আমলের পাওয়ার ব্যাংক গুলোতে ডুয়েল ইনপুট এবং ডুয়েল আউটপুট সুবিধা যুক্ত থাকে তাই একি সাথে একাধিক ডিভাইস চার্জ দেওয়া যায়। বর্তমানে কুইক চার্জিং এবং ফাস্ট চার্জিং আউটপুট  সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে। অতিরিক্ত হিসেবে এল ই ডি টর্চ লাইট, ডিজিটাল ডিসপ্লে সুবিধা থাকে কিছু কিছু পাওয়ার ব্যাংকে।  

দরদাম ও প্রাপ্তিস্থানঃ বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন কোম্পানির পাওয়ার ব্যাংক পাওয়া যাচ্ছে বিপনি-বিতান গুলোতে । মোবাইল ফোন বিক্রয় কেন্দ্র এবং বিভিন্ন কোম্পানির আউটলেটেই পাওয়া যায় পাওয়ার ব্যাংক। বসুন্ধরা সিটি,যমুনা ফিউচার পার্ক, ইস্টার্ন প্লাজা, মোতালিব প্লাজা,নর্থ টাওয়ার, স্টেডিয়াম মার্কেট সহ সারাদেশেই মোবাইল মার্কেটে সহজেই পাওয়া যায় এই পণ্য। যেকোনো জায়গা থেকেই আপনার বাজেটের মধ্যে সর্বোচ্চ ভালো পণ্যটা বেছে নিতে পারেন। বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই মুহুর্তে বাজারে বহুল প্রচলিত পাওয়ার ব্যাংকটি চায়নিজ কোম্পানি শাওমির। শাওমির Mi ও Redmi দুইটি সিরিজের পাওয়ার ব্যাংক পাওয়া যাচ্ছে। Mi সিরিজের ৫০০০ এম এ এইচ ৬০০-৮০০ টাকা, ১০০০০ এম এ এইচ ১১০০-১৩০০ টাকা ও ২০০০০ এম এ এইচ ক্যাপাসিটির পাওয়ার ব্যাংকের মূল্য  ১৬০০-২০০০ টাকা। 

Huawei ব্রান্ডের ১০০০০ এম এ এইচ পাওয়ার ব্যাংক পাওয়া যাচ্ছে ২১৯০ টাকায়। গ্যাজেট এন্ড গিয়ারে পাওয়া যাচ্ছে বিশ্যখ্যাত Aucky ব্রান্ডের ১০০০০ ও ২০০০০ এম এ এইচ যথাক্রমে ২২৯০ ও ৩৯৯০ টাকায়, সুইজারল্যান্ডের ব্র‍্যান্ড SKSROSS ব্র‍্যান্ডের পাওয়ার ব্যাংক ও বিক্রি করছে তারা।  বিশ্বখ্যাত Anker এর Power core সিরিজের পণ্য গুলোও বেশ সমাদৃত ক্রেতাদের কাছে দাম শুরু ২৯৯০ টাকা থেকে। বিশ্বব্যাপী পাওয়ার সল্যুশন নিয়ে কাজ করা Energizer এর পাওয়ার ব্যাংক ও পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন মডেলের। ক্যাপাসিটি ভেদে দামে রয়েছে ভিন্নতা, মাত্র ৯৫০ টাকা থেকে শুরু। এছাড়াও Adata, Remax, Baseus, Dell, Proda, Ugreen, Micropack, Aspor, TP Link, Rapoo, Apacer ব্রান্ডের পাওয়ার ব্যাংক বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। 

যাদের হাতে সময় কম কিংবা মার্কেটে গিয়ে ঘুরাঘুরি করার মতো সময় নেই তারা চাইলে অনলাইনেও কিনে নিতে পারেন পছন্দমতো পণ্য। অনেক অনলাইন সেলার হোম ডেলিভারি দিয়ে থাকে। তবে অনলাইনে কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই পণ্যটি অফিসিয়াল কিনা এবং বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে পরিষ্কার ভাবে জেনে নেওয়া ভালো।         

About Jewel Rana

Check Also

পায়ে হেঁটে রংপুর বিভাগ ঘুরে দেখা – ৪র্থ দিন।

ট্যাক্সের হাট (বদরগঞ্জ) – পার্বতীপুর – চিরিরবন্দর – দিনাজপুর – বীরগঞ্জ ( ৪১.৫৪ + ২৭.৩২) …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *