Breaking News

মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন নিয়ে যত প্রশ্ন

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে মোট তিনটি ট্রেন চলাচল করে। এ তিনটি হচ্ছে ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস, ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি-ঢাকা রুটে মিতালী এক্সপ্রেস এবং খুলনা-কলকাতা-খুলনা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস। পেইজ ইনবক্সে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে মৈত্রী এক্সপ্রেস নিয়ে। যারা ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে বা চিকিৎসার জন্য যান, তাদের পছন্দের শীর্ষে আছে মৈত্রী এক্সপ্রেস। অনেকেই কলকাতায় ট্রেনে যেয়ে ভারতের অন্যান্য রাজ্যে বিমানে বা ট্রেনে যেয়ে খরচ কমাতে পারেন।

ঢাকা থেকে দিল্লী/চেন্নাই/হায়দারাবাদ/বেংগালুরু এসব শহরের বিমানের যে ভাড়া, কলকাতা থেকে অর্ধেক বলা চলে। এছাড়া ট্রেনে গেলে স্থল সীমান্তগুলোর মতো ভোগান্তি নেই বলে অনেকেই ট্রেনে যেতে চান। পেইজ ইনবক্সে মৈত্রী এক্সপ্রেস নিয়ে সচরাচর যে সমস্ত প্রশ্ন আসে সেগুলোর উত্তর নিয়ে এ আর্টিকেল।

প্রশ্ন: ঢাকা থেকে কলকাতা যাওয়ার জন্য কোন ট্রেনটা ভালো হবে? / কলকাতা যাবো কোন ট্রেনে? / ভারতে যাওয়ার জন্য কোন ট্রেনটা ভালো হবে?

উত্তর: ঢাকা থেকে কলকাতা পর্যন্ত একটি ট্রেনই চলে সেটা হচ্ছে মৈত্রী এক্সপ্রেস। আপনার ভারতের গন্তব্যে যদি কলকাতা হয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে তবে মৈত্রী  এক্সপ্রেসেই আপনাকে যাওয়া লাগবে। তবে দার্জিলিং/সিকিম যদি আপনার গন্তব্য হয় তবে আপনাকে যেতে হবে মিতালী এক্সপ্রেসে (পোর্ট অবশ্যই বাই ট্রেন নিউ জলপাইগুড়ি দেয়া থাকা লাগবে)। আর মেঘালয়/আসাম/ত্রিপুরা হলে সরাসরি ট্রেনের কথা ভুলে যান।

দর্শনা গেদে হয়ে চলাচল করে মৈত্রী এক্সপ্রেস ছবি তুহিন

প্রশ্ন: এই ট্রেনে যেতে হলে পোর্ট কোনটি দেয়া থাকা লাগবে? / ট্রেন যাবে কোন দিক দিয়ে?

উত্তর: মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের পোর্ট হচ্ছে ”বাই ট্রেন গেদে”। বর্তমানে ভিসার আবেদনের সাথে এ পোর্ট ডিফল্ট দেয়া থাকবে, আলাদা করে পোর্ট আবেদন করা লাগবেনা। বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলা দর্শনা সীমান্তের ভারতের অংশের নাম গেদে, যেটি মূলত একটি রেলস্টেশন। ট্রেন ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে ছেড়ে যমুনা সেতু হয়ে দর্শনা হয়ে ভারতে প্রবেশ করবে এবং চিতপুর (কলকাতা) স্টেশনে যেয়ে থামবে।

প্রশ্ন: মৈত্রী ট্রেনের  ইমিগ্রেশন কোথায় হবে? পথে কোথাও থামবে?

উত্তর: বাংলাদেশ অংশের ইমিগ্রেশন শেষ হবে ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে। অপরদিকে ভারতের অংশের ইমিগ্রেশন শেষ হবে চিতপুর (কলকাতা) স্টেশনে। ইমিগ্রেশনের বিষয়টা বিমানের মতোই, ঢাকা থেকে ইমিগ্রেশন শেষ করে একেবারে কলকাতায় আবার ইমিগ্রেশন করে বের হবেন। ট্রেন গেদে সীমান্তে ২ মিনিটের জন্য দাঁড়াবে তবে কোন যাত্রী তখন ট্রেন থেকে নামতে পারবেনা।

প্রশ্ন: ট্রেন কি প্রতিদিন ছাড়ে? টিকেট কি গেলেই পাওয়া যাবে? বাংলাদেশ থেকে ছাড়বে কয়টায়? কতক্ষণ লাগে কলকাতা যেতে?

উত্তর: ঢাকা থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেস ছেড়ে যায় সপ্তাহে চারদিন, শুক্র, শনি, রবি ও বুধবার। আর কলকাতা থেকে ছাড়ে শনি, সোম, মঙ্গল ও শুক্রবার। ঢাকা থেকে ছাড়ে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮:১৫ মিনিটে। কিন্তু ইমিগ্রেশন শেষ না করে প্লাটফর্মে আসা যায়না, তাই অন্তত দুঘন্টা আগে স্টেশনে আসতে হবে। সকাল ৬:১৫ থেকে ইমিগ্রেশন খোলা থাকে। কলকাতা থেকে সকাল ৭:১০ মিনিটে (ভারতীয় সময়) ছেড়ে আসে। মোটামুটি বিকেল চারটার সময় পৌছে যায়।

প্রশ্ন: মৈত্রী ট্রেনের ভাড়া কত? ট্রেনের ট্রাভেল ট্যাক্স কীভাবে দেবো?

উত্তর: মৈত্রী এক্সপ্রেসে এসি সিট ও এসি চেয়ার এ ধরণের সিট আছে। এসি সিটের বর্তমান ভাড়া ৩,৮৫০ টাকা এবং এসি চেয়ারের ভাড়া ২,৭৩৫ টাকা। এ ভাড়ার মধ্যে ৫০০ টাকা ট্রাভেল ট্যাক্স অন্তর্ভূক্ত আছে, এর ফলে আলাদা করে ট্রাভেল ট্যাক্স দিতে হবেনা। ডলারের দাম ওঠানামার সাথে সাথে ট্রেনের ভাড়াও উঠানামা করে।

মৈত্রী এক্সপ্রেসের এসি সিট ছবি তুহিন

প্রশ্ন: মৈত্রী এক্সপ্রেসের টিকেট কোথায় পাবো? অনলাইনে কিনতে পারবো? (সবচেয়ে বেশি এ প্রশ্নটায় করে সবাই!)

উত্তর: মৈত্রী এক্সপ্রেসের টিকেট শুধুমাত্র কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ও চট্টগ্রাম নতুন স্টেশনে পাওয়া যাবে। আগে ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে বিক্রি হতো বলে এখনো সবাই ভুলে ওখানে চলে যায়। অনলাইনে কোন টিকেট বিক্রি হয়না। কলকাতা থেকে এই ট্রেনের টিকেট চিতপুর (কলকাতা) স্টেশন ও ফেয়ারলী প্লেস থেকে কিনতে পারবেন। এছাড়া ২০% টিকেট রিটার্ণ কাটা যায়, রিটার্ণ টিকেট না পেলে ভারত থেকে কাটতে হবে।

মৈত্রী এক্সপ্রেসের জন্য রয়েছে আলাদা টিকেট কাউন্টার ছবি ইউটিউব থেকে

প্রশ্ন: কতদিন আগে টিকেট কাটা যায়? টিকেট কাটার নিয়ম কী?

উত্তর:  এই ট্রেনের টিকেট যাত্রার ৩০ দিন আগে কাটা যাবে। টিকেট কাটার জন্য ভিসা সহ পাসপোর্ট নিয়ে স্টেশনে যেয়ে টিকেট কাটতে হবে। স্টেশনে নির্ধারিত কাউন্টারের একপাশে পাসপোর্ট ও টাকা জমা নিবে, অন্য পাশ থেকে টিকেটসহ পাসপোর্ট ফেরত দিবে। ট্রেনের টিকেট বিক্রি হয় সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত। চাইলে টিকেটের আবেদনপত্র (ডাউনলোড লিংক) আগেই ফিলআপ করে নিয়ে যেতে পারেন, তাকে হয়তো কিছু সময় বাঁচবে, না নিলেও সমস্যা নেই।

প্রশ্ন: টিকেট অন্য কেউ কাটতে পারবে? পাসপোর্ট/ভিসা ছাড়া টিকেট কাটা যাবে? ক্রেডিট কার্ড দিয়ে টিকেট কাটা যাবে?

উত্তর: ট্রেনের টিকেট কাটার জন্য পাসপোর্টসহ স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে। তবে পরিবারের কেউ সর্বোচ্চ তিনটি কাটতে পারবেন। পাসপোর্টে অবশ্যই ভারতের ভিসা থাকতে হবে এবং সেখানে  “বাই ট্রেন গেদে” পোর্ট হিসেবে উল্লেখ থাকা লাগবে। বর্তমানের এ পোর্ট ডিফল্ট দেয়া আছে, কারো যদি বাই এয়ার ভিসা থাকে তবে সেখানে ট্রেনের পোর্ট অ্যাড করে নিতে হবে। কোন ধরণের কার্ড/মোবাইল মানি দিয়ে টিকেট কাটা যাবেনা, ক্যাশ টাকায় কাটতে হবে।

প্রশ্ন: ট্রেনে ভ্রমণের জন্য কোভিড টেস্ট লাগবে? 

উত্তর: বর্তমানে দুটি টিকা দেয়া থাকলেই আর কোভিড টেস্টের প্রয়োজন পড়বেনা। এ টিকা মডার্ণা, ফাইজার, এস্ট্রোজেনেকা ও সিনোফার্ম যেটাই হোক অসুবিধে নেই। এছাড়া ১২ বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের কোভিড টেস্ট বা টিকার সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই। ১২-১৮ বছরের বাচ্চার ক্ষেত্রে টিকার সার্টিফিকেট অথবা কোভিড টেস্ট করা থাকতে হবে।

বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেনে কোভিড সংক্রান্ত নির্দেশনা ছবি বাপ্পী জাহিদ

আশা করি এ পোস্টে মৈত্রী এক্সপ্রেস সংক্রান্ত আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর রয়েছে। এরপরও যদি কোন প্রশ্ন থাকে, এ পোস্টের কমেন্টে দিতে পারেন, আমরা উত্তর দিবো। একটি বিনীত অনুরোধ, দয়া করে এ সাইটে প্রকাশিত কোন পোস্ট কপি করে নিজেদের গ্রুপে/পেইজে পোস্ট করে দিবেন না, লিংক শেয়ার করবেন। এই সাইটের যাবতীয় পোস্ট ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল হওয়াতে ফেইসবুকেই এর লিংক ওপেন হবে, সাইটে ডাইভার্ট হবেনা।

ফিচার ছবি সবুজ খান

About Muhammad Hossain Shobuj

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করে পরবর্তীতে আইবিএ থেকে এক্সিকিউটিভ এমবিএ করেছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেন। লেখালেখিটা শখের কাজ, ঘোরাঘুরিও। এ পর্যন্ত দেশের ৬৩ টি জেলা ও ১২ দেশে ঘুরেছেন।

Check Also

যে কারণে প্রত্যাখ্যান হয় ভারতীয় ভিসা

কম খরচে ঘোরাঘুরির জন্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য ভারত। মূলত স্থলপথে যাতায়াত করা সম্ভব …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *